ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

১১৫ বছরের জীবনে একবারও হাসপাতালে যাননি এই নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩
১১৫ বছরের জীবনে একবারও হাসপাতালে যাননি এই নারী
মারিয়া ব্রানিয়াস মোরেরা - ফাইল ছবি

১১৮ বছর বয়সী ফরাসি সন্ন্যাসিনী লুসিল র‌্যাঁদের মৃত্যুর পর ১১৫ বছর বয়সি মারিয়া ব্রানিয়াস মোরেরাই নাকি এখন বিশ্বের প্রবীণতম মানুষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, জীবদ্দশায় এক দিনের জন্যও নাকি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রের মুখ দেখেননি শতায়ু মারিয়া। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তাকে নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

মারিয়া ব্রায়াস মোরেরার বয়স ১১৫ বছর হলেও বিশ্ব স্বীকৃতি নেই। তবে তাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রবার্ট ডি ইয়াং।

আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে মারিয়াকে। গিনেস কর্তৃপক্ষ তার বয়সের নথিপত্র যাচাই করবে। তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

Advertisement

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো এই বয়সেও দিব্যি সুস্থ-সবল আছেন তিনি। শতবর্ষ পেরোনো এই নারীকে অসুস্থতা নিয়ে কখনোই হাসপাতালে যেতে হয়নি।

আরো পড়ুন>> ইরাকে স্টেডিয়ামের বাইরে পদদলিত হয়ে নিহত ৪

বর্তমানে উত্তর-পূর্ব স্পেনের ওলোট শহরের পরিবারের সঙ্গে থাকেন মারিয়া। মারিয়ার কনিষ্ঠ কন্যা, ৭৮ বছর বয়সি রোসা মোরেট বলেন, আমার মাকে আজ পর্যন্ত কখনও কোনও অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়নি। মায়ের শরীরে কোনও হাড় কখনও ভাঙেনি। এই বয়সেও উনি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ। মায়ের দীর্ঘ আয়ুর জন্য পূর্বপুরুষ সূত্রে পাওয়া জিনকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন মোরেট।

মারিয়ার পূর্বপুরুষরা স্পেনের বাসিন্দা হলেও তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৭ সালের গোড়ার দিকে তার বাবা-মা মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। ওই বছরেই ৪ মার্চ সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম হয় মারিয়ার। ১১৫ বছরের জীবনে ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারি, দুই বিশ্বযুদ্ধ এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধের সাক্ষী হয়েছেন তিনি।

১৯১৫ সালে অর্থাৎ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মারিয়ার পরিবার স্পেনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পেন যাওয়ার পথে মারিয়ার বাবা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়েছিল তার মৃতদেহ। মায়ের সঙ্গে স্পেনে ফিরে আসেন মারিয়া। ১৯৩১ সালে এক জন চিকিৎসককে বিয়ে করেন।

আরো পড়ুন>> দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা যাচাই করতে গিয়ে নিজেই বিপাকে কর্মকর্তা

মারিয়ার তিন সন্তান, যার মধ্যে এক জন ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন। ১১ জন নাতি-নাতনি এবং ১১ জন পুতি রয়েছে তার।

মারিয়াকে দমাতে পারেনি কোভিডও। মারণ ভাইরাসে প্রবীণ পড়শিদের মৃত্যুমিছিলের মাঝে দাঁড়িয়ে তার গালভরা যুদ্ধ-জয়ের হাসি ইন্টারনেটে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল।

মারিয়ার মেয়ে মোরেটের দাবি, মহামারি আবহে করোনা আক্রান্তও হয়েছিলেন মারিয়া। তবে ঘরের মধ্যে নিভৃতবাসে থেকেই নাকি তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরো পড়ুন>> বিশ্বকে নম্রতা শেখালেন জেসিন্ডা আরডার্ন

অনেকেই মারিয়াকে প্রশ্ন করেন, আপনার এই সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের আসল রহস্য কী? উত্তরে একগাল হেসে বৃদ্ধা উত্তর দেন, তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকেন। মনই সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি। মন ভাল থাকলেই শরীর ভাল থাকে।

তিনি আরো বলেছিলেন, আমার সুস্বাস্থ্যই আমার অহঙ্কার। আমি ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছি। জীবনে কখনও নাকি হাসপাতালের মুখ দেখেননি বৃদ্ধা। অসুখবিসুখ হলেও সেরেও গেছে দ্রুত। এতটাই শক্তপোক্ত তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!