বুধবার (০৮ ফ্রেব্রুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কে আঘাত হানা দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলে যান এরদোগান। যা প্রথমটির কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ৪০ মাইল উত্তরে।
.png)
ধ্বংসস্তুপ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এরদোগান স্বীকার করেন যে ভূমিকম্পে সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমস্যা ছিল। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর ও রাস্তাঘাটের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন । তবে তার দবি, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
আরো পড়ুন>> তুরস্ক ও সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেল
এদিকে সিরিয়া ও তুরস্কে সোমবার আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে কেবল তুরস্কেই ১২ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ায় ২ হাজার ৯৯২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুটি দেশেরই ধসে পড়া হাজারো ভবনের ধ্বংসস্তুপে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। বিভিন্ন দেশ থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। তবে সেখানে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে একদিকে উদ্ধার কাজ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া আহতদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকেই কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির চরম অভাব।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তিন মাসের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ১০টি প্রদেশকে দুর্যোগকবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে বিধ্বংসী ভূমিকম্প এবং বেশ কয়েকটি আফটারশকের আঘাতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে।
আরো পড়ুন>> মহাকাশ থেকে বাংলাদেশের ছবি তুললেন বিজ্ঞানীরা
চারপাশে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে অনেকে। সেই আকুতি কানে এলেও অনেক ক্ষেত্রেই কিছুই করতে পারছে না মুক্ত আকাশের নিচে থাকা স্বজনরা।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায় প্রদেশে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা এক নারী সাহায্যের আর্তি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু তার আকুতি লোকে শুনতে পারলেও উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। দানিজ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তারা শব্দ করছে, কিন্তু (উদ্ধারে) কেউ আসছে না।
উল্লেখ্য, সোমবার তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ১০০টি আফটার শক হয়েছে। এগুলোর মাত্রা ৪ দশমিক ০ বা বেশি ছিল।