ভূমিকম্পের সময় তাকে ও তার পরিবারকে বাঁচাতে ছুটে যান ইউনুস। কিন্তু পারেননি। তার আগেই সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। মারা যান ইউনুসের প্রিয়তমা বাগদত্তা।
তুরস্কের কাহরামানমারাস শহরের এ ঘটনাটি সবার হৃদয়ে আঘাত করেছে। গত সোমবারের (৭ ফেব্রুয়ারি) ভয়াবহতায় হবু স্ত্রীকে হারিয়ে শোকে পাথর ইউনুস। গুলচিনের জন্য বিয়ের যে পোশাক তিনি কিনেছিলেন, সেটি এখন আর ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি। বরং প্রিয়তমাকে পরাতে হবে কাফনের কাপড়।
.png)
তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনা করেন ইউনুস-গুলচিন। কিন্তু গুলচিনের বাবা বিদেশে থাকায় বিয়ে পিছিয়ে দিতে হয়। আগামী এপ্রিলে তাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়।
জানা গেছে, দুজনের বাড়িও ছিল কাছাকাছি। সোমবার ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইউনুস দৌড়াতে থাকেন গুলচিনের বাড়ির দিকে। কিন্তু তার আগেই শেষ হয়ে যায় গুলচিনের প্রাণ। ছোট বোনের সঙ্গে এক ভবনেই চাপা পড়েন তিনি।
ইউনুস বলেন, তাকে বিয়ের পোশাক পরানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন তাকে কাফন পরাতে হবে। এটি খুব কষ্টের।
কাহরামানমারাস শহরের স্টেডিয়াম-পার্কিং লটে রাখা গুলচিনের কপালে চুম্বন করছিলেন ইউনুস। এ সময় তিনি বলেন, এখন আমি শুধু তার কপালে চুম্বন করছি। ব্যাগটি খুলে মুখেও চুমু খেয়েছি। মনে হচ্ছে এত সুন্দর গন্ধ আর কোথাও নেই। এর মতো সুন্দর গন্ধ আর নেই।
তিনি বলেন, গুলচিনের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তার সঙ্গে প্রথম দেখা সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার সময়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭। প্রথম দেখায় আমরা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। সে আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতো।