ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

আর্থিক সংকট কাটাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করছে মিশর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
আর্থিক সংকট কাটাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করছে মিশর
আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি - ফাইল ছবি

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে মিশরের অর্থনীতি। এই বিপর্যয় ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ-প্রতিষ্ঠান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে দেয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

আল-সিসি বলেন, ‘প্রতিবছর মিশরে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের (তিন লাখ কোটি) বাজেট দরকার। আমাদের কাছে কি এই অর্থ আছে? না নেই। আমাদের কাছে কি অর্ধেক আছে? না নেই। আমাদের কাছে কি এক-চতুর্থাংশ আছে? তারও উত্তর, নেই।’

Advertisement

তিনি যোগ করেন, ‘বন্ধুরাষ্ট্র আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতের কাছ থেকে আমাদের সহায়তা দরকার।’

ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের উদ্বোধনী দিনে আল-সিসি তার বক্তব্যকালে আন্তরিকভাবে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। সেখানে তিনি আরব আমিরাতের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি তাদের মিশরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন>> ৭ বছরের শিশুকে কামড়ে হত্যা করল কুকুর!

চলমান বৈশ্বিক সংকটে বহু দেশের মত মিশরের অর্থনীতিও বেশ ধুঁকছে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট সিসি সম্মেলনে তার দেশের সংস্কারের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। ঘোষণা দেন, মিশরের বেসরকারি খাতের আকার ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করা হবে। এ জন্য রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা, জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করা হবে। সরকারি ব্যয়ে কাটছাঁট করা হবে।

মিশরের ২৮০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তার এক আবেদনের জবাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) সংস্কার ও বিদেশি বিনিয়োগের শর্ত দিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে মিশর ওই শর্তে সম্মতি দিয়েছিল।

সৌদি আরবসহ যেসব উপসাগরীয় দেশ গত ১০ বছরে মিশরকে নিঃশর্তভাবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে, তাদের জন্য এই ঘোষণা বেশ আকর্ষণীয় বটে। তারাও বেশ কিছুদিন ধরে মিশরের অর্থনীতিতে সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

আরো পড়ুন>> অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই শিশুকে দত্তক নিল যে দম্পতি

প্রথমত, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মিশরের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, বিদেশি সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। 

গত বুধবার বেশ কয়েকটি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ যেসব দেশ তেল-গ্যাস নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে তাদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে চায়, তারা মিশরে সম্পদ ও ভূমি কিনতে আগ্রহী। এখন সেখানে বিনিয়োগ করার সবচেয়ে ভালো সময়।

গত ১১ মাসে মিশরের মুদ্রা পাউন্ড মার্কিন ডলারের বিপরীতে অর্ধেক মূল্য হারিয়েছে। মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবমতে, গত জানুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। উপসাগরীয় দেশের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মিশরের বর্তমান অবস্থা বেশ আকর্ষণীয়। সস্তায় সেখানে বিনিয়োগ করা যাবে।

আরো পড়ুন>> বিয়ের খুশিতে ছাদ থেকে ফেলা হলো লাখ লাখ টাকা!

অবশ্য মিশরের অর্থনীতির বিরাট একটা অংশ বেসরকারীকরণের উপযুক্ত নয়। কারণ, এগুলো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের অস্বচ্ছ ব্যবসা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য মোটেই সুখকর হওয়ার কথা নয়। 

যেমন প্রেসিডেনশিয়াল ট্রেডমার্ক প্রকল্পের আওতায় কায়রোর বদলে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী নির্মাণ এবং মনোরেল নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৫ সাল থেকে রাজধানী নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে মনোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম চালকবিহীন মনোরেলের লাইন হবে এটি।

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের ১২তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে ব্যাপক আপত্তি সত্ত্বেও ওই দিনই আল-সিসি তার এসব প্রকল্পের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

সিসি বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের প্রকল্প জরুরি। এই প্রকল্প দেশের ক্ষয়িষ্ণু অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তিনি এসব প্রকল্পের কারণে মিশরের অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার অভিযোগ উড়িয়ে দেন। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেড়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!