রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে বৈরি আবহাওয়ায় পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইতালির ক্রোটন প্রদেশের সমুদ্র তীরবর্তী স্টেকাতো ডি কুট্রোর রিসোর্টের কাছের সমুদ্রে ছোট কাঠের নৌকাটি ডুবে যায়। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স জানায়, ক্রোটোন প্রদেশের সমুদ্রতীরবর্তী স্টেকাতো ডি কুট্রো রিসোর্টের তীরে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। অঞ্চলটির স্থানীয় সরকারের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ম্যানুয়েলা কুরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৮১ জনকে। এর মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন আইসিউতে রয়েছে।’
.png)
বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও জরুরি পরিষেবার সদস্যরা উপকূল ও সাগরে নিখোঁজ অভিবাসন প্রত্যাশীদের খুঁজছেন বলেও জানিয়েছে এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘নৌকাটিতে ১৪০ থেকে ১৫০ ছিল। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।’
ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে আফগানিস্তান, ইরানসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিল।
ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাটি চার দিন আগে তুরস্কের ইজমির উপকূল থেকে ছেড়ে আসে। গতকাল শনিবার ইতালি উপকূলের ৭৪ কিলোমিটার দূরে প্রথম নৌকাটিকে শনাক্ত করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান এটিকে শনাক্ত করে।
আরো পড়ুন>> ইতালিতে জাহাজডুবে ৩৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নৌকাটি যেন ইতালির উপকূলে না আসতে পারে সেজন্য কয়েকটি টহল নৌকা জড়ো করা হয়। তবে, বৈরি আবহাওয়ায় সেগুলোকে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইতালির সংবাদ সংস্থা এএনএসএ জানিয়েছে, সমুদ্র সৈকতে প্রথমে কয়েক মাসের এক শিশুর মরদেহ ভেসে আসে। কুট্রোর মেয়র অ্যন্তনিও ক্রেসা বলেন, ‘নিহতদের তালিকায় নারীসহ বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে।’ তবে, কতজন নারী ও শিশু রয়েছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইতালি অন্যতম প্রধান ল্যান্ডিং পয়েন্ট। তথাকথিত কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি অভিবাসনপ্রত্যাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রুট হিসেবেও পরিচিত।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্প অনুসারে, ২০১৪ সাল থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ২০ হাজার ৩৩৩ জন মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে।