রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার ব্লকটির পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ওয়াগনার গ্রুপকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এই সামরিক সংগঠনকে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের তালিকা পূর্ণতা পেয়েছে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে হুমকি ও ক্ষুণ্ন করার জন্য নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ওয়াগনার গ্রুপকে যুক্ত করা হয়েছে। ওয়াগনার গ্রুপ যেখানে সক্রিয় রয়েছে সেখানেই অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।
.png)
আরো পড়ুন>> ইয়েমেন-সৌদির মধ্যে ৯০০ বন্দি বিনিময়
পূর্ব ইউক্রেনের ছোট শহর বাখমুত দখলে রুশ আক্রমণের নেতৃত্বে রয়েছে ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধারা। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর এই ভাড়াটে আলোচনায় আসে মূলত কারাগার থেকে বন্দিদের বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার পর এবং যুদ্ধে তাদের নৃশংস কৌশলের পর।
এই ভাড়াটে বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সম্প্রতি রুশ সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলেছেন তিনি।
১৯৮০’র দশকে চুরি ও রাস্তায় ছিনতাইয়ের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৯ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন প্রিগোজিন। গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে আড়াল থেকে বেরিয়ে হাই প্রোফাইল ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
সম্প্রতি ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধারা এক ইউক্রেনীয় সেনার শিরশ্ছেদ করে যুদ্ধাপরাধ করেছে। এই শিরশ্ছেদ করার ভিডিও টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, সবাই এর তীব্র পতিবাদ ও নিন্দা জানায়। এর পরেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয় ওয়াগনার গ্রুপ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান