ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

পাকিস্তানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ম্লান ঈদ আনন্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ১৯ এপ্রিল ২০২৩
পাকিস্তানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ম্লান ঈদ আনন্দ
সংগৃহীত

চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভূগছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি চরমে পৌছেছে পাকিস্তানে। খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবার পাকিস্তানিদের ঈদের আমেজ অনেকটাই মলিন হয়ে গেছে। বুধবার (১৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে পাকিস্তানের ছোট দোকান এবং ব্যবসাগুলো আগে নিশ্চিতভাবেই অনেক বেশি অর্থ রোজগার করতে পারতো। কিন্তু এ বছর তাদের অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, বাড়তি রোজগার তো দূরের কথা এবার তারা তাদের মাসিক ভাড়া দেওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থই আয় করতে পারবেন কিনা।

Advertisement

মূলত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এই দেশটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। 

এএফপি বলছে, ২২ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে গত মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৩৫.৪ শতাংশ ছুঁয়েছে। গত ১২ মাসে পাকিস্তানে খাদ্যের দাম ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে একইসময়ে পরিবহন খরচ বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর গত ৭৬ বছরে এই পরিমাণ মূল্যস্ফীতি কখনও দেখেনি দেশটির জনগণ।

আরো পড়ুন>> বিশ্বের সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ হলো ভারত

মূলত বছরের পর বছর ধরে আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং বিধ্বংসী বন্যার ফলে গত বছর পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

রমজানের শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময় সারা বিশ্বের মুসলমানরা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সাথে খাওয়া দাওয়া ও উপহার বিনিময় করেন। একইসঙ্গে নতুন জামাকাপড় ও জুতা পরিধান করে একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেন তারা। 

তবে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের ফলে পাকিস্তানে সাধারণভাবে যেসব বাজার প্রাণবন্ত থাকে সেগুলোতেও এখন অনেকটা বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। পাকিস্তানি এক ব্যবসায়ী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকার কারণ হচ্ছে- মূল্যস্ফীতি।’

তিনি বলছেন, ‘আমরা কেবল এই আশায় দিন পার করছি যে, আমরা এবার আমাদের দোকানের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করতে সক্ষম হবো।’

এএফপি বলছে, সাধারণত ঈদের এই মৌসুমে পাকিস্তানজুড়ে প্রধান প্রধান শপিংমল ও এলাকাগুলোতে কেনাকাটায় মানুষ অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকেন। শহুরে বিপণিকেন্দ্র, বাজার এবং দোকানগুলো মধ্যরাতের পরও খোলা থাকে। বছরের এই সময়টাতে গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য বিশেষ অফার বা ছাড়ে বিক্রয় করে থাকেন ব্যবসায়ীদের অনেকে।

সূত্র: এএফপি

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!