গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে এরদোগান পেয়েছিলেন ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট৷প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে থাকলেও নির্বাচিত হতে পারেননি তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে প্রেসিডেন্টকে ৫০ শতাংশ সমর্থন পেতে হয়। তাই আবারো দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ঝুলে যায় তার ভাগ্য। এর আগে কখনো দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে যেতে হয়নি তাকে।
অপরদিকে, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেও এরদোগানের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন কেমাল কিলিচদারোগলু। তিনি পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট। ফলে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনে অনেক আশাবাদী কেমাল কিলিচদারোগলু। তিনি নির্বাচিত হলে ২০ বছর পর নতুন কোনো প্রেসিডেন্ট পাবে তুরস্কের জনগণ।
.png)
প্রথম দফা নির্বাচনে তৃতীয় স্থান পেয়েছিলেন সিনান ওগান৷ তিনি পেয়েছিলেন পাঁচ দশমিক ২০ ভাগ ভোট৷ গত ২২ মে এক সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় দফা ভোটে এরদোগানকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার দল মনে করে, পার্লামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, প্রেসিডেন্ট সেই দল থেকেই হওয়া উচিত। আর তাই এরদোয়ানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে কেমাল কিলিচদারোগলু এমন এক বিরোধী জোটের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যে জোটকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তাই এরদোগানকেই সমর্থন করেন তিনি।
আরো পড়ুন>> ইমরান খানের অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব দেবেন কে
ভোটের দিন দেশটির জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন, কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান ভোটাররা। দেশটিতে এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার তিন মাস আগেই ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়ে যায় দেশটি।
এবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ তুরস্কের নির্বাচন৷শেষ পর্যন্ত যিনি জয়ী হবেন, তিনি শুধু ন্যাটোভুক্ত দেশটির নেতৃত্বই দেবেন না, বরং অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশকে টেনে তোলা ও পররাষ্ট্র নীতি সংস্কারের মতো চ্যালেঞ্জিং কাজ করবেন।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৬০ মিলিয়নেরও বেশি লোক ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। যার মধ্যে ৪৯ লাখ মানুষ প্রথমবার ভোটার হয়েছেন। রোববারের এই ভোটের জন্য তুরস্কে মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৫টি ব্যালট বাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
তুরস্কের সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের মতে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ জন ভোটার ইতোমধ্যেই তুরস্কের বিদেশি মিশন এবং শুল্ক গেটগুলোতে তাদের ভোট দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র ইস্যুর মধ্যে, এরদোয়ানের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও সামরিক শক্তিতে কিছুটা পিছু হটেছে তুরস্ক। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পকের কিছুটা অবনতি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি