শীতপ্রধান যেসব দেশেও তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে
উত্তর আমেরিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে ১৯১৩ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল৷ আফ্রিকার সবচেয়ে উষ্ণতম তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস- যা ১৯৩১ সালে তিউনিসিয়ার কেবিলিতে রেকর্ড করা হয়েছিল৷ এশিয়ার সবচেয়ে গরমের রেকর্ড ইরানে হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে ২০১৭ সালে।
১১ আগস্ট, ২০২১ সালে ইতালীয় দ্বীপ সিসিলিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যা ছিল ৪৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২২ সালের ২২ জুলাই যুক্তরাজ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খবর আল-জাজিরা।
২০২০ সালে, অ্যান্টার্কটিকার সেমুর দ্বীপের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
.png)
গত সোমবার (৩ জুলাই) পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে গড় তাপমাত্রা। গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে এই রেকর্ড গড়ে। এর আগের রেকর্ড ছিল ১৬ দশমিক ৯২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৬ সালের আগস্টের একদিনে এই তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছে ইউএস ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রেডিকশন।
জলবায়ু বিজ্ঞানী ফ্রিডেরিক অটো বলেছেন, এটি উদযাপন করার মতো কোনো রেকর্ড নয়। তাপমাত্রার এই রেকর্ড মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রের (ইকোসিস্টেম) জন্য ‘মৃত্যুদণ্ড’।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপ দেখা গেছে। চীনে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপপ্রবাহ রয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা।
অ্যান্টার্কটিকায় শীতকাল চলছে। সেখানেও অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শীতল মহাদেশটির আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জে তাপমাত্রা রেকর্ড ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন কমছে না। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তাপমাত্রা। প্রায় এক দশক ধরে বৈশ্বিক উষ্ণতা ঊর্ধ্বমুখী। পৃথিবীর তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদিভাবে বাড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে দায়ী করেন জলবায়ুবিশেষজ্ঞরা।