বুধবার (২৬ জুলাই) সম্পূরক অভিযোগপত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরো তিনটি অভিযোগ আনা হয়। যার অন্যতম হলো মামলার নথিপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করার দায়। বাকি দুটি অভিযোগ– গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর।
সিসিটিভি কাণ্ডে ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়ি ‘মার এ লাগো’র নিরাপত্তাকর্মীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার নাম কার্লোস ডি অলিভেরা।
.png)
আদালতে রাখা জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে সিসিটিভির ভিডিও নষ্ট করার ক্ষুদে বার্তা পেয়েছিলেন।
মার-এ-লাগোর এই অবকাশযাপন কেন্দ্রে সাধারণত ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হাজারো সদস্য এবং অতিথিদের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে বরাবরের মতো ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ওয়াল্ট নাউতার বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার দুটি অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। নতুন আদালতের নথিতে বিচার বিভাগের তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্য নাউটা এবং মার-এ-লাগোর ব্যবস্থাপক অলিভিয়েরার মধ্যে যোগসাজস ওঠে এসেছে।
এর আগে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোপন নথিসহ শত শত নথির অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। গোপন নথি ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখাসহ মোট ৩৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।
৪৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সামর্থ্য, সামরিক হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সম্ভাব্য ঝুঁকির মতো বিষয়ের গোপন নথিপত্র বিভিন্ন বাক্সসহ নিজের ফ্লোরিডা এস্টেটের বলরুমে ও বাথরুমে রাখে ট্রাম্প। এছাড়া তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বলার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে আসন্ন ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চাওয়া সাবেক এই প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি।
প্রসিকিউটররা বলছেন যে, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্টের অফিস ছাড়েন তখন তিনি প্রায় ৩০০ গোপন নথি মার-এ-লাগোতে নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মার-এ-লাগোর এই অবকাশযাপন কেন্দ্রের একটি বলরুমে গোপন নথি পাওয়া গেছে।
এছাড়া, এফবিআই যখন এসব নথি নিয়ে তদন্ত শুরু করে তখনও ট্রাম্প তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ট্রাম্প তাদের বলেছিলেন, তার আইনজীবী নথিগুলো কোথাও লুকিয়েছেন বা সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। নথিগুলো তার কাছে নেই বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বিবিসি