জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন মৃত এবং ১০২ জন নিখোঁজ। ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্যে আটকে আছেন হাজার হাজার পর্যটক। কিন্তু কীভাবে ঘটল সিকিমের এই মহা বিপর্যয়? সত্যিই কী মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতেই ফেটে গেল লোনাক হ্রদ? উদ্ধার ও ত্রাণের কাজের পাশাপাশি, বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই উঠে আসছে অন্য এক তত্ত্ব। একাংশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিকিমের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকতে পারে নেপালের ভূমিকম্প।
ইসরোর আওতাধীন ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, দক্ষিণ লোনাক হ্রদের তিনটি উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ১৭ সেপ্টেম্বর যেখানে হ্রদটিতে আনুমানিক ১৬২.৭ হেক্টর আয়তনের জল ছিল, বুধবার (৪ অক্টোবর) সকালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০.৩ হেক্টরে। অর্থাৎ, দক্ষিণ লোনাক হ্রদের আয়তন ১০০ হেক্টরেরও বেশি কমেছে। এই গায়েব হয়ে যাওয়া ১০০ হেক্টর পানিই তিস্তা নদীর অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত করেছে।
.png)
প্রাথমিকভাবে ভিলেন মনে করা হচ্ছে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিকেই। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৩ সালে কেদারনাথের বন্যার সময়। রোববার থেকেই লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে সিকিমে। কাজেই এই সম্ভাবনা মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মতে, সম্ভবত এই রকমটা ঘটেনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিশ্চিত করে বলা কঠিন, কিন্তু, মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে এমন ঘটে না।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মতে, হ্রদটির ফেটে যাওয়ার পিছনে নেপালের ভূমিকম্পের হাত থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার, অর্থাৎ এই বিপর্যয় ঘটার ঠিক একদিন আগে, নেপালে পরপর চারবার ভূমিকম্প হয়েছিল। যা অনুভব করা গিয়েছিল, উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকেও। সব থেকে জোরালোটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.২। এই ভূমিকম্প সিকিমে আকস্মিক বন্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াটার কমিশনের বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, আগে থেকেই হ্রদটি দুর্বল অবস্থায় ছিল। যে কোনো সময় ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। কাজেই, ভূমিকম্পের ফলে হ্রদটি ফেটে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।