এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এসব ঘটনায় দেশটির ঝেজিয়াং প্রদেশের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। কারণ সম্প্রতি এখানকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালের প্রসূতি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
গত বছর চীনের জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ওই সময় দেশটিতে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার শিশু জন্ম নেয় যা ১৯৬১ সালের পর সর্বনিম্ন ও ২০২১ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।
.png)
জনসংখ্যাগত মন্দা চীনে নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বার্ধক্য ও সঙ্কুচিত জনসংখ্যার কারণে দেশটির জিডিপিও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।
সাম্প্রতিক হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়া জন্মহার হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু বলা হয়নি। বরং নাজুক পরিস্থিতিতে সেবা দেয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছে অনেক হাসপাতাল।
চলতি বছরের এপ্রিলে গুয়াংসি প্রদেশের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র জানায়, জেলায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রসূতি ও গাইনোকোলজি ইউনিটে প্রসব বন্ধ করা হবে। গত মাসে পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিংবোর আরেকটি হাসপাতাল জানায়, মাতৃত্ব রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করবে না।
এসব ক্ষেত্রে অনেক হাসপাতাল দাবি করছে, গর্ভাবস্থা, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সময়ে সেবা দেয়ার মতো কর্মী নেই তাদের। যার কারণে পরিষেবাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে।
এদিকে চীনের নেতারা কম জনসংখ্যার কারণে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন এবং জন্মহার বাড়ানোর চেষ্টা করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করেছেন। ২০১৬ সালে এক-সন্তান নীতি বাতিল করা হয় ও পরিবারগুলোকে তিনটি পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
অবশ্য চীনের তরুণ প্রজন্ম সন্তান নিতে তেমন একটা আগ্রহী নন, সেক্ষেত্রে তিন সন্তান নীতি অনেকটাই উচ্চাকাঙ্খা। সিচুয়ান প্রদেশ জন্ম নিবন্ধনের সীমা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছে। কিছু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিশুদের জন্য নগদ ভর্তুকি প্রদান করে বলে জানা গেছে।
এই নীতিগুলো জন্মহারে সামান্য প্রভাব ফেলেছে। ২০১৬ সাল থেকে বছরে নতুন জন্মের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। বিশেষ করে অল্পবয়সী নারীরা প্রায়ই মনে করে যে একটি শিশুকে লালন-পালনের খরচ অনেক বেশি এবং তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো না। শহুরে, শিক্ষিত নারীরাও ক্রমবর্ধমানভাবে পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক নিয়ম মেনে নিতে চাইছেন না। পারিবারিক সদস্যরা চান নারীদের অন্তত একটি সন্তান নিতে হবে।