এটা আমাদের জন্য ৯/১১: ইসরায়েলি মেজর
ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের গাজা ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অতর্কিত হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ এর সঙ্গে তুলনা করেছেন ইসরায়েলের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর নির দিনার বলেন, এটা আমাদের জন্য ৯/১১।
এদিকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জনাথান কনরিকাসও হামাসের এই হামলাকে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার সাথে তুলনা করেছেন।
তিনি বলেন, এখানে ৯/১১ ও পার্ল হারবার যেন একসাথে ঘটছে। এটা ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে দিন। এর আগে কখনো এক দিনে এতো ইসরায়েলি কোনো ঘটনায় মারা যাননি, কোনো শত্রুর আক্রমণ তো দূরেই থাক।
উল্লেখ্য : ৯/১১, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়াবহতম হামলার দিন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি যাত্রীবাহী জেট বিমান ছিনতাই করে সেগুলো দিয়ে আঘাত হানা হয় নিউইয়র্কের দুটি আকাশচুম্বী ভবনে, যে ঘটনায় নিহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।
ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসাথে ছিনতাই করে। দুটি বিমান বিধ্বস্ত করা হয় নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ভবনে।
প্রথম বিমানটি আঘাত হানে নর্থ টাওয়ারে আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে। দ্বিতীয় বিমানটি সাউথ টাওয়ারে বিধ্বস্ত করা হয় এর অল্পক্ষণ পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে।
দুটি ভবনেই আগুন ধরে যায়। ভবন দুটির উপরতলায় মানুষজন আটকা পড়ে যায়। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দুটি টাওয়ার ভবনই ছিল ১১০ তলা। মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে দুটি ভবনই বিশাল ধুলার ঝড় তুলে মাটিতে ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে।
তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনের সদর দফতরের পশ্চিম অংশে আঘাত হানে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে ছিল আমেরিকান প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশাল এই সদর দফতর পেন্টাগন ভবন।
এরপর, সকাল ১০টা ৩ মিনিটে চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভেনিয়ার এক মাঠে। ছিনতাই হওয়া চতুর্থ বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পর সেটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে, পার্ল হারবার আক্রমণ ছিল ইতিহাসের একটি অপ্রত্যাশিত সামরিক অভিযান যা জাপান সাম্রাজ্যের নৌবাহিনী কর্তৃক হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌ-ঘাঁটিতে আক্রমণ পরিচালিত হয়।
১৯৪১ সালের ২৬ নভেম্বর, রোববার। সরকারি ছুটির দিন। পার্ল হারবারে অবস্থিত সকল সামরিক কর্মকর্তা, দ্বীপের সাধারণ অধিবাসী সকলেই ছুটির দিনের ফুরফুরে মেজাজে অবস্থান করছেন। জাপানের দুই স্তরের বিমান বাহিনী এগিয়ে আসছেন পার্ল হারবারের দিকে। আমেরিকান সেনাবাহিনীর রাডারে দৃশ্যমান হয় কতগুলো বিমান। তখনো জাপানের আক্রমণ বাহিনীর প্রথম স্তরের বিমানগুলো ১৩৬ নটিক্যাল মাইল দূরে। আমেরিকান সেনাবাহিনী ভুলক্রমে ধারণা করে ঐগুলো আমেরিকান বোমারু বিমান। যেগুলো পার্ল হারবারের দিকে যাচ্ছে তাদের সামরিক অবস্থানের জন্য।
সময় সকাল ৭টা ৫৫মিনিট। হঠাৎ এগিয়ে আসা দুই স্তরের যুদ্ধবিমান থেকে জাপান পার্ল হারবারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নৌ কর্মীরা ছুটির দিনে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে লিপ্ত ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই ধ্বংস হতে থাকে একের পর এক পার্ল হারবারের ঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ যুদ্ধে ব্যবহৃত নানান সমরাস্ত্র।
প্রথম স্তরের বোমারু যুদ্ধ বিমান থেকে পার্ল হারবারের নৌ-ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক টর্পেডো নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো। সাথে সাথে শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ করে প্রচণ্ড বোমা নিক্ষেপ ও মেশিনগানের গুলিবর্ষণ। চারটি যুদ্ধজাহাজ তাৎক্ষণিকভাবে ডুবে যায়। অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পার্ল হারবারের বিমান ঘাঁটিতেও সমানভাবে আক্রমণ চালায় জাপান বিমান বাহিনী। বিমানবাহিনীর শতাধিক বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। সর্বমোট ১৮৮টি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রায় ৯০ মিনিটের এই আক্রমণে পার্ল হারবার একরকম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। হঠাৎ আক্রমণে মার্কিন বাহিনী কোনোরকম পাল্টা আক্রমণ করতে পারেনি এবং তাৎক্ষণিক এই আক্রমণের প্রতিবাদও করতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৯০ মিনিটের এই আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সাথে সাথে প্রায় আড়াই হাজার সামরিক ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়াও সহস্রাধিক মানুষ চরমভাবে আহত হয়, যাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব বরণ করে। জাপানের বিমান বাহিনীর খুব একটা ক্ষতি না হলেও মার্কিন নৌ-বাহিনীর তথ্যমতে জাপানের ৬০টি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীদের মধ্যে থেকে ৬০/৬৫ এর মতো নিহিত বা আহত হয়।