ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হামলার মধ্যেই গাজার উত্তরে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ফিলিস্তিনি: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৩
হামলার মধ্যেই গাজার উত্তরে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ফিলিস্তিনি: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তর অংশে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। অবিরাম বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে এলাকাটি। সেইসঙ্গে বাসিন্দাদের দিয়েছে দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ। তবে এসব কিছু উপেক্ষা করে গাজার উত্তর প্রান্তে নিজ বাড়ি ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন সপ্তাহ খানেক আগে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিরা। কারণ, যে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা দক্ষিণ দিকে ছুটেছিলেন সেটা তারা পাননি। বরং সেখানেও পরিস্থিতি ভয়াবহ, হচ্ছে হামলা।

নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গত সপ্তাহে গাজা সিটি এবং উত্তরের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় ১১ লাখ ফিলিস্তিনি চলে গেছেন বলে জানিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু এখন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তর থেকে দক্ষিণে আসা গাজার বাসিন্দারা খাবার, পানি ও আশ্রয়ের অভাব নিদারুণ মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও দক্ষিণের খান ইউনিস নগরীতে রোববার ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৪৩৬ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে।

Advertisement

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

খান ইউনিসে অবস্থান করা সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিনিধি বলেন, গত কয়েক দিনে সেখানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার শরণার্থী এসেছে। নগরীতে তিলধারণের জায়গা নেই।

অনেকে হাসপাতাল, ক্লাব, রেস্তোরাঁতে আশ্রয় নিয়েছেন। কারো কারো কপালে সেটাও জোটেনি। তারা খোলা আকাশের নিচে কোনো মতে বেঁচে আছেন।

গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ এর পরিচালক টমাস হোয়াইট বলেন, বেশিরভাগ বাস্তুচ্যুত মানুষ দিনে মাত্র এক লিটার পানি আর দুটো ছোট রুটি খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।

“মানবিক এই সংকট, সঙ্গে দক্ষিণের বেসামরিক এলাকাগুলোতে অব্যাহত বিমান হামলার অর্থ, কেউ কেউ উত্তরে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

“মূলত, লোকজন উত্তরে তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা, তাদের জীবন সবকিছু ফেলে এসেছে। দক্ষিণে এসে একটি আশ্রয় খুঁজে পেতেও রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে, খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। আসলে দক্ষিণের পরিস্থিতিও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।”

খান ইউনিসে পালিয়ে আসা রিয়াদ জাবাস বলেন, “আমাদের গাজা সিটি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, খান ইউনিস নিরাপদ এলাকা, এখন পুরো গাজায় কোথাও আসলে নিরাপদ স্থান নেই।”

এদিকে, শনিবারও ইসরায়েলের বিমান থেকে গাজা সিটিতে লিফলেট ফেলা হয়েছে বলে জানায় বিবিসি। যে লিফলেটে দেশটির সেনাবাহিনী হুঁশিয়ার করে বলেছে, যে ওয়াদি গাজা নদীর দক্ষিণে চলে না যাবে তাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের একজন সদস্য বলে বিবেচনা করা হতে পারে’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!