চীনে জিনজিয়াংয়ের পর মুসলিম অধ্যুষিত স্থান হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলীয় নিংজিয়া ও গানসু অঞ্চল। সেখানে মুসলমানদের উপাসনার জন্য অসংখ্য মসজিদ ছিল। তবে অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে মসজিদের সংখ্যা দিন দিন উল্লেখযোগ্যহারে কমছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউএ) বলছে, সংখ্যালঘুদের চীনাকরণ করার অংশ হিসেবে মসজিদগুলো বন্ধ করছে চীনা সরকার।
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ঠিক কতগুলো মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি এইচআরডব্লিউ। উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে সংস্থাটির গবেষকরা জানিয়েছেন, নিংজিয়ার দুটি গ্রামে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাতটি মসজিদের মিনার ও গম্বুজ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে চারটি মসজিদকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই চার মসজিদের মধ্যে আবার তিনটির প্রধান ভবন ধ্বংস করা হয়েছে এবং অপরটির অজু করার স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
.png)
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব প্লাইমাউথের লেকচারার হান্নাহ থিয়েকার বলেন, অজু করার স্থান না থাকলে সাধারণত আপনি উপসনালয় ব্যবহার করতে পারবেন না। এর মানে, উপাসনার স্থান কৌশলগতভাবে অপসারণ করা হচ্ছে।
একটি সরকারি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বন্ধ হওয়া এসব মসজিদের সংখ্যা শত শত। নিংজিয়া প্রদেশের ঝোংওয়েই শহরে ১০ লাখের বেশি মানষের বসবাস। ২০১৯ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেখানে তারা ২১৪টি মসজিদের স্থান পরিবর্তন, ৩৭টি নিষিদ্ধ ও ৫৮টি মসজিদ একত্রিত করেছে।
হান্না থিয়েকার ও ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের গবেষক ডেভিড স্ট্রপ জানান, নিংজিয়ায় প্রায় এক হাজার ৩০০ মসজিদ ছিল। ২০২০ সাল থেকে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বন্ধ হয়ে গেছে।
মসজিদ একত্রীকরণ বিষয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিংজিয়ার এক ইমাম বলেন, আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে দুটি মসজিদ থাকলে সেগুলো এক করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদগুলো বন্ধ হওয়ায় অনেক তরুণ ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিরা ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম ধীরে ধীরে ইসলামের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। আর এভাবেই মুসলিমদের চীনাকরণ ঘটবে।