শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের রকেট হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছে।’
এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, সকালের দিকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ওই হামলা করে। শ্তুলা এলাকায় ওই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
.png)
হামলায় নিহত ইসরায়েলি সৈনিক একজন সার্জেন্ট বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম - অমিত হোদ জিভ (১৯)। তিনি ১৮৮ তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৭১তম ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর - হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে নিহত বা আহত সৈন্যদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে প্রকাশ করেনি।
হিজবুল্লাহ এর আগে বলেছিল, তারা ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সৈন্যদের একটি সমাবেশে হামলা করেছে এবং এ আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ইসরায়েলিদের।
হামাসের অভিযানের পর থেকে লেবানিজ-ইসরায়েল সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল এক মাসব্যাপী যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েল পাশবিকতা চালিয়ে গেলেও কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান পর্যন্ত জানায়নি।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫৭ জন।
গাজার সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৩ হাজার ৩২০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এছাড়া গাজায় ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দী করে নিয়ে গাজা উপত্যকায় ফিরে যায়। সেদিন থেকেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।
ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এবং আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেবে। এগুলোই হামাসের এই অভিযানের কারণ।’
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি