ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

‘ফিলিস্তিনি বন্দিদের অমানুষিক নির্যাতন করতো ইসরায়েলি সেনারা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৮, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
‘ফিলিস্তিনি বন্দিদের অমানুষিক নির্যাতন করতো ইসরায়েলি সেনারা’
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটক তিন ফিলিস্তিনি ভাই অভিযোগ করে বলেছেন, তারা যখন বন্দী ছিলেন তখন তাদের ওপর ও অন্যান্য বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে ইসরায়েলি সেনারা। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা এসব অভিযোগ করেছেন।

ফিলিস্তিনি ওই তিন ভাইয়ের নাম সোভি ইয়াসিন, সাদি ও ইব্রাহিম। তারা এখন দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। এর আগে তাঁরা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটক ছিলেন।

রয়টার্সের কাছে এই তিন ভাই অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েলি সেনারা তাদের মারধর করত, নগ্ন করে গায়ে সিগারেটের ছেঁকা দিত। এমনকি শরীরে প্রস্রাব করে দিত তারা।

Advertisement

রয়টার্স জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আরও অনেক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে সেসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্ত করে আনাও এ অভিযানের একটি উদ্দেশ্য।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তাদের হাতে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা হয় না যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তবে তারা শরীরের সঙ্গে অস্ত্র বা বিস্ফোরক বহন করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদেরকে পোশাক পরিবর্তন করতে বলা হয়।

গাজার উত্তরাঞ্চলে জেইতুন এলাকায় সোবহি, সাদি ও ইব্রাহিমের বাড়ি। সেখানে তারা দিন মজুরির কাজ করত। জেইতুন থেকেই তাদের আটক করে নিয়ে গিয়েছিল ইসরায়েলি সেনারা। 

সেই সময়ের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে সোবহি বলেন, ‘আমাদেরকে জোর করে একটি ট্রাকে উঠায় তারা। আমরা উঠতে চাচ্ছিলাম না দেখে, পরে তারা একটি খোলা জায়গায় নিয়ে গিয়ে শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেয়। এরপর আমাদের গায়ে প্রস্রাব করে দেয় তারা।

সাদি বলেন, ওরা (ইসরায়েলি সেনারা) আমাকে আটক করে একটি আবর্জনার ট্রাকে রেখেছিল। আরও অনেককে আটক করেছিল তারা। কেউ একটু প্রতিবাদ করলেই মারধর করত।

আরেক ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল তারা। সারা রাত ঘুমাতে দেয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছিল।

প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই তিন ভাইকে আলাদা আলাদা সময়ে শালম ক্রসিংয়ে ছেড়ে দিয়েছে ইসরায়েরি বাহিনী। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা রাফাহ এলাকায় আসেন এবং এই শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২১ হাজার ৩২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৫ হাজার ৬০৩ জন।

অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হামাস বাহিনী ২৪২ জনকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!