রোববার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, হাসপাতালে ইসরায়েলিরা হামলা চলমান রেখেছে এবং বিভিন্ন অপরাধ ঘটাচ্ছে। এই অঞ্চলের বৃহত্তম চিকিৎসা কেন্দ্র আল-শিফা, যেখানে হাজার হাজার রোগী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
.png)
সেখানে ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং এক হাজার ৫০টি বাড়ি ধ্বংস করেছে। বিবৃতিতে আরো যোগ করা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে রোগী, বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা রয়েছেন। এ ছাড়া আরো শতাধিক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার এবং নির্যাতন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার মিডিয়া অফিস এই ধরনের নৃশংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার নিন্দা জানিয়েছে।
তারা গাজায় রক্তাক্ত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় মার্কিন প্রশাসন এবং আরো কয়েকটি দেশের প্রতি নিন্দা জানায়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরাও ইসরায়েলি বর্বরতার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। উত্তর গাজার জাবালিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হোসাম আবু সাফিয়া বলেছেন, ‘চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীরা শোচনীয় পরিস্থিতিতে কাজ করছে।’
গত ১৮ মার্চ সশস্ত্র ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক এবং ড্রোন হামলা চালায় আল-শিফা হাসপাতালে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আল-শিফায় মারাত্মক অভিযান চলছে। দখলদার ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছে এবং যারা পালানোর চেষ্টা করছে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করছে, হামাস এই হাসপাতল ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশটি বলেছে, ‘সন্ত্রাসী বাহিনী ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযান শুরুর সময় বলেছিল প্রায় তিন হাজার ফিলিস্তিনি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে।
তারা পালাতে চাইলেও ইসরায়েলি স্নাইপাররা এবং হেলিকপ্টার থেকে ইসরায়েলি সেনারা তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছে।
এদিকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) বলেছে, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ২৬ কর্মীকে হত্যা করেছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, তাদের প্রায় ১৫ জন কর্মী মানবিক দায়িত্ব পালন করার করছিল এবং সুরক্ষিত রেড ক্রিসেন্টের জ্যাকেট পরা থাকলেও তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা, তেহরান টাইমস