যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকালো ইসরায়েল
দামাস্কাসে ইরানি দূতাবাসে হামলার জবাব দিতে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ৯৯ শতাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেছেন, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অ্যারো এদের বেশিরভাগকে ইসরায়েলি সীমার বাইরে প্রতিহত করেছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য।
তবে এবারই প্রথমবার নয়, এর আগেও অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করে বেশ সফলতা পেয়েছে ইসরায়েল। গত বছর ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া রকেটও এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবহার মাধ্যমে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
.png)
এখন প্রশ্ন হলো এই অ্যারো ডিফেন্স আসলে কী, কীভাবে এতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এটি? এক প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে দেশটির এই প্রতিরক্ষা ব্যূহ সাজানো হয়েছে। এদের মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে আয়রন ডোম ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আর দীর্ঘ পাল্লার কোনো হুমকি মোকাবিলায় অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ইসরায়েলি বাহিনী।
জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই বেশ ব্যয়বহুল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে ইসরায়েল। তবে গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হয়নি। এর কারণ হলো হামাস ও হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে আয়রন ডোম দিয়েই কাজ সেরে আসছিল তেল আবিব। তবে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে অ্যারো ডিফেন্স ব্যবহার করতে হয়।
মূলত হামাস ও হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বল্পপাল্লার। তবে গত কয়েক দশকে ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরানের ভান্ডারে বিভিন্ন দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল যুক্ত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শুধু ইসরায়েলি ভূখণ্ড নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে। তাই নিজেদের ভান্ডারে এতগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও জোটবদ্ধ হয়ে প্যাট্রিয়টের চেয়েও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অ্যারো ডিফেন্স নিয়ে আসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে অ্যারো ডিফেন্স প্রোগ্রাম হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইতিমধ্যে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বেশ কয়েকটি সংস্করণ তৈরি করেছে দেশ দুটি। এদের মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ হলো অ্যারো থ্রি। ২০১১ সালের দিকে অ্যারো থ্রি-এর সংস্করণের সফল পরীক্ষা করে ইসরায়েল। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম এই ব্যবস্থাটির গতি শব্দের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। এর কার্যক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর শক্তিশালী রাডার সিস্টেম রয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে শত্রুপক্ষের অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে পারে।