মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন বিভাগের ভাইস-চ্যান্সেলর (উপাচার্য) বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ হামলা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে।’
.png)
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাতে লাঠিসোটা, বেসবল ব্যাট হাতে সেই সব তাঁবুতে আক্রমণ করে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটায় হামলাকারীরা। হামলাকারীদের সবারই মুখে মুখোশ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে হামলার বিভিন্ন ছবি-ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করা হয়েছে। সেসব ছবি=ভিডিও ফুটেজে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের পেটানো, তাদের তাবু তছনছ করা এবং আতশবাজি ফাটানোর মতো ব্যাপার দেখা গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের পুলিশ বিভাগ সাহায্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে। আমরা ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতির ফুটেজ দেখেছি।
ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীরা। অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে ক্যাম্পাস চত্বরেই সারাক্ষণ অবস্থান করছেন তারা। ইউসিএলএর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও সেভাবেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন।
সর্বপ্রথম নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বর্তমানে নেতৃত্বও দিচ্ছে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
গতকাল মঙ্গলবার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের তাঁবু উচ্ছেদ করার সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি-সংঘর্ষ শুরু হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হ্যামিল্টন হল’ নামের এক ভবন দখল করে।
পুলিশ প্রথমে হ্যামিল্টন হল ত্যাগের জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানায়। শিক্ষার্থীরা সেই আহ্বানে সাড়া না দিলে পুলিশ সদস্যরা মই জোগাড় করে দোতলার জানালা ভেঙে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে। তারপর অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের অভিযান শেষ হওয়ার দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই হামলা ঘটে ইউসিএলএ’র ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের ওপর।