সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার খবরে জানা গেছে, পদত্যাগকৃত ওই কর্মকর্তার নাম অ্যান্ড্রু মিলার। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ছিলেন। অ্যান্ড্রু মিলার তার চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের জন্য ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন।
মিলার তার সহকর্মীদের বলেন, তিনি তার পরিবারের সাথে আরো বেশি সময় কাটাতে চান। কারণ গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া বর্তমান যুদ্ধ ‘সবচেয়ে বেশি সময় গ্রাসকারী’ হয়ে উঠেছে।
.png)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরায়েল সরকারের প্রতি ‘শক্তিশালী এবং রুক্ষ সমর্থনের’ বিষয়ে তিনি সংশয়বাদী ছিলেন বলেও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। মূলত মার্কিন প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমই প্রথম মিলারের পদত্যাগের খবর সামনে আনে।
জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থাজুড়ে একের পর এক কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পদত্যাগ করলেন মিলার।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মিলার তার সহকর্মীদের বলেছিলেন- যদি তার ব্যক্তিগত দায়িত্বের জন্য চাকরি ছাড়তে না হতো, তবে তিনি তার চাকরিতে থাকতেই পছন্দ করতেন।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার কিম্বার্লি হ্যালকেট বলেছেন, একের পর এক পদত্যাগ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের জোরালো সমর্থনের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশার কথাই তুলে ধরেছে।
হ্যালকেট বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে, বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন, তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট (জো বাইডেন) কিছু ক্ষেত্রে সত্যকে বিকৃত করছেন বা এমনকি গাজায় বিপুল প্রাণহানির বিষয়েও চোখ বন্ধ রাখছেন।’
আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সদ্য পদত্যাগ করা মিলার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশ জারিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। আর সেই আদেশে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জন্য বেশ কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
অ্যান্ড্রু মিলার পূর্বে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একজন সিনিয়র নীতি উপদেষ্টা ছিলেন এবং ওবামা প্রশাসনে হোয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে মিসর ও ইসরায়েল সামরিক বিষয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে গত মে মাসে বাইডেনের ইসরায়েল নীতির প্রতিবাদে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। তার নাম স্টেসি গিলবার্ট। তিনি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব পপুলেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্রেশনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। তিনি কংগ্রেসে জমা দেওয়া বাইডেন প্রশাসনের ওই রিপোর্টে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
এর আগে মে মাসের মাঝামাঝিতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের আরও একজন কর্মী প্রকাশ্যে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকৃত ওই কর্মকর্তার নাম লিলি গ্রিনবার্গ কল।