ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যে কারণে গরুর মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:০৪, ২৩ জুন ২০২৪
যে কারণে গরুর মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেটিনাতে গরুর মাংসের ব্যবহার কমেছে অন্তত ১৬ শতাংশ। অথচ দেশটিতে গরুর মাংস সবসময়ই সামাজিক অনুষ্ঠানের একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। 

চলতি বছর আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতির হার ৩০০ শতাংশ। দেশটির স্থবির অর্থনীতি সচল করতে উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলি কঠোর কৃচ্ছতার ব্যবস্থা নিয়েছেন। দেশটিতে দারিদ্র্য বেড়েছে, প্রধান শহরগুলোতে আরও বেশি লোক গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রধান খাবারের ব্যবহার কমিয়েছে, মাংস, দুধ এবং সবজির মতো আইটেম তারা বাদ দিয়েছেন। 

স্থানীয় মাংস চেম্বার সিআইসিসিআরএ-এর সভাপতি মিগুয়েল শিয়ারিটি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নাজুক। ভোক্তারা শুধু তাদের মানিব্যাগের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রতি মাসে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

কসাইয়ের দোকানে লাইনে অপেক্ষারত মার্টিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানান, তিনি অন্যান্য পণ্য কেনা কমিয়ে দিতে রাজী, তবে গরুর মাংস নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আর্জেন্টাইনরা এমন কঠিন সময়ে যেকোনো কিছুকে বাদ দিতে পারে। কিন্তু আমরা মাংস ছাড়া থাকতে পারি না।’

এরপরও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টাইনরা এই বছর প্রতি বছর প্রায় ৪৪ কেজি করে গরুর মাংস খাচ্ছে। গত বছর এই হার ছিল ৫২ কেজি। ১৯৫০ এর দশকে বছরে প্রায় ১০০ কেজি মাংস খেতো আর্জেন্টাইনরা।

প্রসঙ্গত, বিস্তীর্ণ গরুর খামার এবং আসাডো বারবিকিউর জন্য বিখ্যাত আর্জেন্টিনা। তাদের খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ গরুর মাংস। ফুটবলের সঙ্গে চা আর গরুর স্টেক বা চপ ছাড়া তাদের চলেই না। আর্জেন্টিনার বাড়িতে বাড়িতে গরুর মাংস পোড়ানো বা গ্রিলের জন্য রয়েছে আলাদা স্থান। পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে খেলা দেখা আর গরুর গ্রিল খাওয়া তাদের এক সংস্কৃতিরই অঙ্গ। এমনকি রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে রাস্তার কোণায় দেখা যায় স্টেক হাউজ। সেখানে গরুর মাংসের স্বাদ নিতে এসব দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। এমনকি আন্দোলন-বিক্ষোভকালেও ভিড়ের চিত্রটা প্রায় একইরকম থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!