ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভারত বনধ ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০৫, ২৮ আগস্ট ২০২৪
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভারত বনধ ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলি
ছবি: সংগৃহীত

আরজি কর হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ।’ সেই কর্মসূচি ঘিরে কলকাতা ও হাওড়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধেছিল। এর জেরে আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১২ ঘণ্টা ঘর্মঘট পালনের ডাক দিয়েছে বিজেপি।

জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই বনধে বিজেপি কর্মীদের সাথে পুলিশ ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি। বিজেপির আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দিয়ে রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রেন ও সড়ক অবরোধের কারণে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারেননি অনেকে। কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সকাল থেকেই দোকানপাট খোলা হয়নি।

কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধ করছে বিজেপি। ঘর্মঘট সফল করতে উত্তর কলকাতায় টালা ব্রিজেও অবরোধ করে টায়ার জ্বালান কর্মী-সমর্থকরা। সকাল সকাল শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের শাটার নামানোর চেষ্টাও করেন তারা। তবে পুলিশি বাধায় পর শ্যামবাজারে মেট্রো পরিষেবা চালু থাকে।

Advertisement

ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার এলাকায় ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়ে রাস্তায় নামেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি যখন দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ করছিলেন, তখনই পুলিশ কর্মকর্তারা এসে বিজেপি কর্মীদের সরানোর চেষ্টা করেন। পরে রাস্তায় বসে পড়েন অগ্নিমিত্রা।

কলকাতায় রাজ্য সরকারের খাদ্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ধর্মঘট সফল করতে সরকারি কর্মচারীদেরকে কাজে যোগদান না করার আহ্বান জানায় বিজেপি। এসপ্ল্যানেড মেট্রো বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টাও করে তারা। মেট্রোর ৫ নম্বর গেটের সামনে এসে স্লোগান দেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। তাদের বক্তব্য, মানুষ ঘর্মঘট চাইছে, তবে পুলিশ তা করতে দিচ্ছে না।

সোনারপুরে ট্রেন অবরোধ করতে গিয়ে ১৫ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক আটক হয়েছেন। সোনারপুর থানায় পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের হাতাহাতিতে জড়ানোর খবরও পাওয়া গেছে।

বনগাঁয় বিজেপির পতাকা নিয়ে রেল লাইনে নেমে পড়েন অনেকে। সেখানে রেল অবরোধে অংশ নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্ত্তনিয়াও। এতে শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার লোকাল ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়েছে। বাংলায় বিজেপির ধর্মঘটকে সফল করতে শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার লক্ষ্মীকান্তপুর লাইনে রেল অবরোধ করা হয়।

জানা গেছে, গোচরণ স্টেশনের আপ লাইনে রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা দেওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গোচরণ, ধপধপিসহ একাধিক স্টেশনে ট্রেন চলাচল অচল হয়ে পড়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে কৃষ্ণনগরেও রেল চলাচল বন্ধ।

সকালে মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে টায়ার জ্বালায় ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। মেদিনীপুর শহরের বাস স্ট্যান্ড, কেরানিতলা ও জেলা বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে ভোর থেকে টায়ার জ্বলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। টায়ার নিভিয়ে রাস্তা থেকে সেগুলো অপসারণ করে তারা।

হুগলি স্টেশনে ব্যান্ডেল হাওড়া লোকাল অবরোধ করেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটে সকালেই রেল লাইনে শুয়ে রেল অবরোধ করেছে হুগলি জেলা বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে চুঁচুড়া থানার পুলিশ উপস্থিত রয়েছেন।

বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টা ঘর্মঘটের আহ্বানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বর্ধমানবাসীদের। মঙ্গলবার জেলার বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, টাউন সার্ভিস বাস চলাচল করছে। স্বল্প পরিসরে দূরপাল্লার বেসরকারি বাস রাস্তায় নামলেও দেখা মিলছে না সরকারি বাসের। তবে এখন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বেলা বাড়লে আসল চিত্র ফুটে উঠবে।

বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট ঘিরে মালদহে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধেছে বিজেপি কর্মীদের। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে,পুলিশকে শাড়ি পরাবে বলে স্লোগান দিয়ে শাড়ি হাতে রায়গঞ্জের পথে নেমেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এর জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে সেখানে।

বিজেপির ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল ছয়টা থেকে বালুরঘাট সরকারি বাস স্ট্যান্ডের সামনে পিকেটিং করে বিজেপি। অন্যদিকে ঘর্মঘট ব্যর্থ করতে পালটা পিকেটিং করে তৃণমূল কংগ্রেস। এসময় সরকারি বাস আটকানোর জন্য গাড়ির নীচে শুয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাদের কার্যত টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। তখন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। এসময় বালুরঘাট টাউন বিজেপির সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্তকে গ্রেফতার করা হয়।

আজকের ধর্মঘট সফল করতে দুই বিজেপি বিধায়ক রাস্তা অবরোধ করেন। কোচবিহার উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাসের সামনে বসে বাস আটকে দেন মালতী রাভা রায় এবং নিখিল রঞ্জন দে। পরে তাদের আটক করে পুলিশ। সেখানে আন্দোলন করা বাকি বিজেপি-কর্মীদেরও আটক করা হয়।


 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!