সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাংহাইয়ে আঘাত হানে টাইফুন বেবিনকা। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বলেছে, তারা এই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে।
তবে চীনের আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, আছড়ে পড়ার সময় টাইফুনের চোখের কাছে বাতাসের গতিবেগ ১৫১ কি.মি./ঘণ্টা রেকর্ড করা হয়েছে।
.png)
এটিকে ১৯৪৯ সালের পর থেকে সাংহাইতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ওই বছর টাইফুন ‘গ্লোরিয়া’ এমন তীব্র শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছিল।
এর আগে, ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত এবং পূর্ব চীনের বিশাল অংশে উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
চীনে ঐতিহ্যবাহী মুন ফেস্টিভাল উপলক্ষে গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের জাতীয় ছুটি। এসময় সাধারণত দূরদূরান্তে ভ্রমণে যান পর্যটকেরা। কিন্তু এবার শক্তিশালী ঝড়ের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।
ঝড়ের কারণে সাংহাই মহানগর এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শহরের দুটি প্রধান বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া রাজ্যের সব ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে যান চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। সাংহাইয়ের ২৫ মিলিয়ন বাসিন্দাকে ঝড় আসার আগে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহরের ভেতরের রাস্তায় সর্বোচ্চ গতিবিধি সীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংহাইতে সরাসরি শক্তিশালী টাইফুনের আঘাত হানা খুবই বিরল। সাধারণত এটি ঘটে থাকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলে।
ঝড়ের পর বেশ কয়েকটি এলাকার গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে। বিলবোর্ডগুলো ঝড়ে উড়ে গেছে।
সাংহাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলো যেমন: সাংহাই ডিজনি রিসোর্ট, জিনজিয়াং অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এবং সাংহাই ওয়াইল্ড অ্যান্ড পার্ক, সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। অনেক ফেরি চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
টাইফুন বেবিনকা এরই মধ্যে জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশ অতিক্রম করেছে।এটি এখন উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং জিয়াংসু, ঝেজিয়াং এবং আনহুই প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাস সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের আবহাওয়া অফিস।
এই মাসেই চীনের দক্ষিণের হাইনান দ্বীপে আঘাত হানে আরেকটি টাইফুন ইয়াগি। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মারাত্মক বন্যার কবলে পড়ে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমারে শত শত মানুষ মারা যায়।
সূত্র: সিএনএন