যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন জেলেনস্কি। জেলেনস্কি এই পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘বিজয় পরিকল্পনা’।
পুরো গ্রীষ্মে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তীব্র লড়াই চলেছে। মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। আর কিয়েভ রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের অংশ দখলে রেখেছে। রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কিয়েভ পশ্চিমাদের চাপ দিয়েছে। তবে এতে কোনো সুফল আসেনি। এরপরই এ ধরনের পরিকল্পনার কথা জানালেন জেলেনস্কি।
.png)
আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের সময় জেলেনস্কি এ নিয়ে বাইডেনের মনোভাব বদলের চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থনের সমালোচনা করেছিলেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিষয়ে প্রশংসাবাচক কথাবার্তা বলেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও জেলেনস্কির সঙ্গে ‘সম্ভবত’ দেখা করবেন বলে জানিয়েছিলেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও যোগ দেবেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের জন্য নতুন ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুত করছে হোয়াইট হাউস। তার মধ্যেই হতে যাচ্ছে জেলেনস্কির এই সফর।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, ‘এবারের শরৎ এই (রাশিয়া-ইউক্রেন) যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’ যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে প্লেনে বসেই এই ভিডিওবার্তা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনে শান্তির জন্য ‘বিজয়ের পরিকল্পনা’ প্রস্তুত হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন জেলেনস্কি।
কী রয়েছে এই পরিকল্পনায় সে বিষয়েও কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্তাবলী তৈরিই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
জেলেনস্কি বলেন, আমাদের বিজয় পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। সব পয়েন্ট, মূল ফোকাসের সব জায়গা এবং পরিকল্পনার সব প্রয়োজনীয় বিশদ সংযোজন সংজ্ঞায়িত করা হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি বাস্তবায়নের সংকল্প।
তিনি আরো বলেন, শান্তির কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধের স্থবিরতা বা অন্য কোনো কারসাজি, যা রুশ আগ্রাসনকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাবে, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না।
সূত্র: বিবিসি