সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যানুযায়ী, ইরান ও ইসরায়েলের বিরোধ অনেক পুরোনো। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং এর জের ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর পর এই বিরোধ যেন আরো বেড়ে যায়। ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট হামলাও চালিয়েছে তেহরান। সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তেহরান ছাড়াও পাশের কারাজ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
.png)
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী তেহরান, খুজিস্তান ও ইলাম প্রদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে তা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে হামলায় কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরান ও আশপাশের বাসিন্দারা বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শুনতে পেয়েছেন সেগুলো ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় হয়ে ওঠার শব্দ। তেহরানের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের কোনো আঘাত হানার খবর সঠিক নয়।
এক সূত্রের বরাতে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরান নিজের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দেয়ার অধিকার রাখে। নিঃসন্দেহে ইসরায়েল যেকোনো হামলার যথোপযুক্ত জবাব পাবে।
ইসরায়েলে পাল্টা হামলা না করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত যেন আর না ছড়িয়ে পড়ে সে লক্ষ্যে ইরানকে ইসরায়েলে হামলা না চালাতে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৬ অক্টোবর) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ইসরায়েলের হামলার পরপরই এমন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র শন সাভেট এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরানকে ইসরায়েলে হামলা না চালানোর আহ্বান জানাই, যাতে যুদ্ধের মাত্রা কোনোভাবে না বাড়ে এবং সংঘাতের এই চক্রটি থেমে যেতে পারে।