বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেশটিতে সামরিক আইন জারি করেন ইউন সুক ইওল। যদিও পরে পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতা ও দেশটির বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে সেটি প্রত্যাহারের কথা জানান। তবে এ নিয়ে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একটি জোট জানিয়েছে, তারা বুধবার ইউনের অভিশংসনের জন্য একটি বিল প্রস্তাব করার পরিকল্পনা করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিলের ওপর ভোট হবে।
এই জোটের একজন সংসদ সদস্য হোয়াং উন-হা সাংবাদিকদের বলেন, সংসদকে প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে এবং দ্রুত অভিশংসনের বিল পাস করতে হবে।
এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটের পর তিনি জানান, সামরিক আইনের অবসান ঘটাতে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ আইন প্রত্যাহার করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন ইউন। এ সময় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ইউন বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সামরিক আইনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ পুনর্গঠন করবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে, আকস্মিক মার্শাল ল' জারির আদেশ মেনে নিতে পারেননি দেশটির আইনপ্রণেতারা। পরে পার্লামেন্টের ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন ভোট দেন এর বিপক্ষে।
এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটের পর ইউন বলেন, সামরিক আইনের অবসান ঘটাতে পার্লামেন্টের অবস্থান তিনি মেনে নিচ্ছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ আইন প্রত্যাহার করা হবে।
টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বলেন, ‘পার্লামেন্টের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি সামরিক আইন প্রত্যাহারের কথা সামরিক বাহিনীকে জানিয়েছি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, পার্লামেন্টের প্রস্তাব গ্রহণ ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠক করছে। বৈঠকের পরই সামরিক আইন তুলে নেয়া হবে।
এর আগে, জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারির খবরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশটির সাধারণ মানুষ। পালার্মেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি জানান তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।