সংস্থাটি জানিয়েছে, হামার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সরকারি সেনাদের পাল্টা আক্রমণের মুখেই শহরটি দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বিদ্রোহীরা। এর ফলে কয়েক দিন আগে বিদ্রোহীদের সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখলের মধ্যে দিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা আরো জটিল হলো। নতুন করে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।
হামা সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। রাজধানী দামেস্ককে সুরক্ষিত ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে শহরটি দখলে রাখা জরুরি। আলেপ্পো দখলে নেয়ার কয়েক দিন পর বিদ্রোহীরা হামা নিয়ন্ত্রণের পথে রয়েছেন।
.png)
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য মতে, হামা শহর তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছেন বিদ্রোহীরা। শহরটি থেকে মাত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছেন তারা। এখন হামা থেকে আসাদ বাহিনীর দক্ষিণে হোমসে যাওয়ার একটি পথই আছে।
গত সপ্তাহে বিদ্রোহীরা সিরিয়ার বৃহৎ নগরী আলেপ্পো দখল করে। গৃহযুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। কয়েক বছর রক্তক্ষয়ী লড়াই চলার পর মিত্রদেশ রাশিয়া, ইরান এবং ওই অঞ্চলের কয়েকটি শিয়া–মিলিশিয়া দলের সহায়তায় প্রেসিডেন্ট আসাদ বিদ্রোহীদের হটিয়ে সিরিয়ার বেশির ভাগ এলাকার দখল আবার নিজের হাতে নেন। তারপর ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে যুদ্ধ বন্ধ ছিল।
এখন রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ করছে। অন্যদিকে তিন মাস ধরে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছিল।
এবারো লড়াইয়ে আসাদ বাহিনীকে সমর্থন করতে ইরানের মদদপুষ্ট কয়েক শ ইরাকি মিলিশিয়া যোদ্ধা সিরিয়ায় প্রবেশ করেছেন। গত সোমবার তারা সিরিয়া প্রবেশ করেন বলে ইরাকি ও সিরিয়ার কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর এবার যোদ্ধা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একটি সূত্র বলেছে, হামার বাইরে তাদের যে লড়াই চলছে, সেখানে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া যোদ্ধারাও লড়াইয়ের ময়দানে আছেন।
গত কয়েক দিনে রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষ থেকেই এ খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা আলেপ্পো ও ইদলিবে হাসপাতালে প্রাণঘাতী হামলার কথা জানিয়েছেন।