বৃহস্পতিবার মস্কোতে আয়োজিত প্রেসিডেন্টের বাৎসরিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সত্যিকার অর্থেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান, সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে আমরা সমঝোতায় যেতে রাজি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যানুযায়ী, ১৯৮৭ সালে ‘ট্রাম্প: দ্য আর্ট অফ ডিল’ বইটি লিখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকেই যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য নিজেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করে থাকেন তিনি। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর ক্ষমতা তার আছে বলে বহুবার দাবি করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও কীভাবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন, সে সম্পর্কে টুঁ শব্দটিও করেননি ট্রাম্প।
.png)
এ দিকে, জাতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি বার্ষিক প্রশ্ন-উত্তর পর্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে তিনি তৈরি রয়েছেন। পুতিনের কথায়, ‘আমি জানি না আমরা কখন বা কবে, কোথায় দেখা করব। কারণ তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানাননি। গত চার বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর থেকে রাশিয়া আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেন পুতিন। ২০২২ সালে নয়, ইউক্রেনে আরো আগে তাদের হামলা করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রাশিয়া যে কোনোভাবেই দুর্বল নয়, তা বিশ্বের দরবারে ফের প্রমাণ করতে মরিয়া তিনি।
পুতিন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে (ট্রাম্পকে) নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রস্তাব বরং আসা উচিত কিয়েভ থেকে; কারণ যুদ্ধের প্রতি ইউক্রেনীয়দের সমর্থন কমছে। আমার ধারণা, শিগগিরই এমন সময় আসবে— যখন ইউক্রেনের আর একজন মানুষও যুদ্ধকে সমর্থন করবে না। তো, আমি এটুকু বলতে পারি যে রাশিয়া আলোচনা ও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত। এখন প্রশ্ন হলো, অন্যপক্ষ (ইউক্রেন) কি (আলোচনা ও সমঝোতার জন্য) প্রস্তুত?”
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি সংলাপ শুরুর ক্ষেত্রে মাত্র একটি পূর্বশর্ত রাখতে চায় রাশিয়া, আর তা হলো— দেশটির বৈধ ও নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেবল বৈঠকে বসবে রুশ প্রতিনিধি দল।
ইউক্রেন যদি সত্যিই শান্তিপূর্ণভাবে যুদ্ধের অবসান চায়, সেক্ষেত্রে আমি বলব যে রুশ প্রতিনিধিরা কেবল ইউক্রেনের নির্বাচিত ও বৈধ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকেও আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু তার আগে অবশ্যই তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে এবং তাতে জয়ী হতে হবে।