ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে ফোকাস ভারতের, ‘বন্ধু’ বানাচ্ছে কিমকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:২৯, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে ফোকাস ভারতের, ‘বন্ধু’ বানাচ্ছে কিমকে
ছবি: সংগৃহীত

পুরো বিশ্ব যখন মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার দিকে তাকিয়ে, ভারত তখন ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি নিয়ে পূর্ব দিকে ফোকাস করছে। তাও নিঃশব্দে। হঠাৎ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নীতিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বদল আনছে ভারত।

জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার ভারতীয় দূতাবাসের বন্ধ দরজা ফের খুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় শত্রু’ কিম জং উনের দেশের সঙ্গে প্রায় গোপনেই এই বদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি, নয়া দিল্লি কোরীয় উপদ্বীপে তার নীতির প্রতি নীরবে এবং সতর্কতার সাথে কাজ করছে। উত্তর কোরিয়া আড়ালে থেকে কাজ করতে পছন্দ করে। যার ফলস্বরূপ, নয়া দিল্লি বিশ্বের সামনে গোপনীয়তা বজায় রাখতে পিয়ংইয়ংয়ের সাথে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক নীরবে জোরদার করার প্রয়াস জারি রেখেছে।

Advertisement

২০২১ সালের জুলাই মাসে পিয়ংইয়ং-এ ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় নয়া দিল্লি। রাষ্ট্রদূত অতুল মালহারি গোৎসুর্ভে মস্কো হয়ে নয়াদিল্লি ফেরেন তার অধীনস্থ সমস্ত কর্মীদের নিয়ে। যদিও তখন বলা হয়েছিল কোভিড পরিস্থিতিতেই এমন সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, এই সুযোগে উত্তর কোরিয়ার মুখের উপরে দরজা বন্ধ করতে চাইছে মোদি সরকার। এই ধারণা যে ভুল নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে ক্রমশই। কেননা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও আর সেদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে বদল কিংবা দূতাবাস খোলার মতো কোনো আপডেট মেলেনি। অতুলকেও মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করে দেওয়া হয়।

এরপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। গত বছর তিন-সাড়ে তিন বছরে কেবল ভারত ও এশিয়ার জন্যই নয়, পশ্চিমি দুনিয়ার কাছেও গুরুত্ব বেড়েছে পিয়ংইয়ং-এর। এই কয়েক বছরে রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। অনেকেই এই জোটকে কোয়াডের একটা বিপরীত শক্তি হিসেবে উঠে আসতে দেখছে।

যদিও ভারতের সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক খুবই ভালো। তেমনি তেহরানের সঙ্গেও মজবুত সম্পর্ক নয়া দিল্লির। অন্যদিকে চীনের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্কের শৈত্য কাটকে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন আনতে অরাজি হওয়ার কিছু নেই।

অন্যদিকে এদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করলে তাদেরও অবস্থান মজবুত হবে। আবার নয়া দিল্লিও বুঝতে পারছে, আগামীদিনে কিমের দেশ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!