ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

অত্যাধুনিক রাডারের ফৌজি বিমান দিয়ে বিশ্বকে চোখ রাঙাচ্ছে চীন

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৪, ৫ জানুয়ারি ২০২৫
অত্যাধুনিক রাডারের ফৌজি বিমান দিয়ে বিশ্বকে চোখ রাঙাচ্ছে চীন
ছবি: সংগৃহীত

বছরের শুরুতই নতুন লড়াকু বিমানের মডেল প্রকাশ্যে এনেছে চীনের পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) আকাশসেনারা। বিমানটির পিঠে কুঁজোর মতো একটি অত্যাধুনিক রাডার বসানো রয়েছে ।

আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনীর পরিভাষায়, এ ধরনের বিমানগুলোকে বলা হয় ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল এয়ারক্রাফ্ট’। শত্রুর যুদ্ধবিমান বা কপ্টার, এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম হদিস পেতে এ ধরনের ফৌজি বিমানগুলো খুবই কার্যকরী। এগুলোর পিঠে বসানো রাডার ৩৬০ ডিগ্রিতে নজর রাখতে সক্ষম। এর থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আগাম সতর্কতা বা প্রত্যাঘাতের পরিকল্পনা যে চীনা জেনারেলরা করতে পারবেন, তা বলাই বাহুল্য।

বেজিংয়ের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যাধুনিক এই বিমানের নাম ‘কেজে-৩০০০’ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ওয়াই-২০’ নামে কৌশলগত দিক থেকে উন্নত একটি লড়াকু বিমান ব্যবহার করেন পিএলএ সেনারা। আর ‘কেজে-৩০০০’ এই বিমানটিরই আরো উন্নত সংস্করণ।

Advertisement

বিমানটিতে দুটি ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনিক অ্যারে রাডার রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর নজরদারির কথা মাথায় রেখে এই বিমান তৈরি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা গ্লোবাল টাইমসের সূত্রে জানা গেছে। 

তবে সূত্রের খবর, ‘কেজে-৩০০০’ এখনই হাতে পাচ্ছে না চীন। এখনো আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা বাকি রয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে এটি পিএলএ’র আকাশ ও নৌ শিবিড়ে যুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই নিয়ে সরকারিভাবে বেজিংয়ের তরফ থেকে এখনো কিছু বলা হয়নি।

সংবাদ সংস্থা ‘ফ্লাইটগ্লোবাল’ জানিয়েছে, ‘কেজে-৩০০০’ বিমানটিতে রয়েছে চারটি ‘শেনওয়াং ডব্লুএস-২০ হাই বাইপাস টার্বোফ্যান’ ইঞ্জিন। মাঝ আকাশে এটি জ্বালানিও ভরতে সক্ষম। ফলে লম্বা সময় ধরে আকাশে ওড়ার ক্ষেত্রে এর কোনো বাধাই থাকছে না। যাতে করে বিমানটির শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞেরা।

নৌশক্তির নিরিখে একুশ শতকে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গেছে চীন। বেজিংয়ের আকাশসেনারাও কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হয়ে উঠবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। দুটি দেশই গত কয়েক দশকে উন্নত লড়াকু জেট, মালবাহী ফৌজি বিমান, বোমারু বিমান এবং ড্রোন নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।

পৃথিবীর প্রায় সমস্ত লড়াকু বিমানে লেজের মতো একটি অংশ থাকে। কিন্তু চীনের এই নতুন বিমানটিতে সেটি রাখেনি বেজিংয়ের প্রতিরক্ষা গবেষকেরা। লেজের মতো অংশ না-থাকায় কোনোভাবেই একে বিরোধী পক্ষের রাডার চিহ্নিত করতে পারবে না। দীর্ঘ দিন ধরেই ষষ্ঠ প্রজন্মের এমন যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। কিন্তু এখনো তাতে সাফল্য পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক লড়াকু বিমান হাতে পাওয়ায় যুদ্ধের ময়দানে চীন বেশ কিছুটা এগিয়ে গেল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

চীনের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করে ফেলা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ভারসাম্য নষ্ট করবে বলে অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশের। ঐ জায়গার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বেজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এটির সাহায্যে চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানালো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ান এ বিষয়ে বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর দু’পারের চীনা নাগরিকেরা একই পরিবারের অংশ। কেউ আমাদের রক্তের বন্ধন ছিন্ন করতে পারবে না। মাতৃভূমির পুনর্মিলনের ঐতিহাসিক ধারাও কারো পক্ষে রুখে দেওয়া সম্ভব নয়।

তাইওয়ান বিষয়ে তার এমন ভাষণ আর নতুন যুদ্ধ বিমান তাইওয়ানের জন্যও উদ্বেগের কারণ হবে বলছেন অনেকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!