ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ইরানের ‘মিজেট’ সাবমেরিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:২৬, ২৩ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ইরানের ‘মিজেট’ সাবমেরিন
‘গাদির’ সাবমেরিন - ফাইল ফটো

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের ছোট আকারের ‘মিজেট’ সাবমেরিন বহর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষুদ্র সাবমেরিনগুলো প্রণালির সরু পথে সহজেই মাইন বিছিয়ে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগে তারা ইরানের স্পিডবোট ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করতে এ-১০ যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারেও ভারী বোমা হামলা করা হয়েছে। মার্কিন বক্তব্য, এসব অভিযানের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রশমিত করা।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বড় হুমকিটি আকাশপথে দৃশ্যমান নয়। পারস্য উপসাগরের অগভীর ও ঘোলা পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তৈরি ইরানের ছোট আকারের সাবমেরিনগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

Advertisement

ইরানের কাছে প্রায় ১০টি ‘মিজেট’ শ্রেণির সাবমেরিন রয়েছে। প্রায় ১২০ টন ওজন এবং ২৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এসব সাবমেরিন প্রচলিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সহজেই নজর ফাঁকি দিয়ে চলতে পারে। মাত্র ৩০ মিটার গভীর পানিতেও এগুলো কার্যক্রম চালাতে সক্ষম, যা হরমুজ প্রণালির গড় গভীরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রণালির অগভীর পানি, জাহাজ চলাচলের কোলাহল ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উচ্চ শব্দ—এসব মিলিয়ে এই এলাকায় সাবমেরিন শনাক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাদির শ্রেণির এই সাবমেরিন থেকে ‘হুট’ টর্পেডো নিক্ষেপ করা সম্ভব, যা পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া রাতের আঁধারে একটি সাবমেরিনই গোপনে একাধিক মাইন স্থাপন করতে পারে, যা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

দীর্ঘ চার দশক ধরে পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করে ইরান তাদের সাবমেরিন ক্রুদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করেছে। এই কৌশল ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশটি হরমুজ প্রণালিকে কার্যত একটি ‘চোকপয়েন্টে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, গাদির শ্রেণির এই মিজেট সাবমেরিনই ইরানের একমাত্র শক্তি নয়; দেশটির হাতে আরো বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!