ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

সৌদিতে হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সৌদি: যুবরাজ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮, ১ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সৌদি: যুবরাজ
সৌদির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোনো হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আরব নিউজের।

Advertisement

মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় না দিয়ে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে রিয়াদ দ্বিধা করবে না।

সৌদি যুবরাজ জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।

ভাষণে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই চুক্তি। সৌদি আরবের পাশে থাকার জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, বিশ্ব এমন একটি জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক জলপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা মোকাবিলায় বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সৌদি যুবরাজ।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় সৌদি আরবের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমেও সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান যুবরাজ।

ভাষণে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানান, ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচির ৯৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা এবং গত এক দশকের বিভিন্ন কৌশলগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় দেশটির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ও সমাধানের উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এ খাতে বিশ্ব নেতৃত্বে পৌঁছানো সৌদি আরবের লক্ষ্য।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!