ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

দুই ডোজ ইনজেকশন, তবু বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২০, ৩ অক্টোবর ২০২৬
দুই ডোজ ইনজেকশন, তবু বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দুই ডোজ পেন্টোবার্বিটাল দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন এবং অচেতন রয়েছেন।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে ক্রিস্টার জীবন রক্ষায় চিকিৎসা চলছে। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তার দুই হাতে গুরুতর আঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে দেওয়া জরুরি আবেদনে তার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছেন।

Advertisement

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমোরকে হত্যার ঘটনায় ক্রিস্টা পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। এ মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম নারী হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।

৩০ সেপ্টেম্বর রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, দুই দফায় পেন্টোবার্বিটাল দেওয়ার পরও ক্রিস্টা শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং নাক ডাকছিলেন। পরে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার আইনজীবীরা শিরা খুঁজে পেতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

ক্রিস্টার আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল ও লুক ইহেন আদালতে জানান, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় তার হাতে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। তাদের দাবি, পেন্টোবার্বিটাল শরীরের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাত ফুলে যায়, পুড়ে যায় এবং ফোসকা পড়ে। তারা ঘটনার সব প্রমাণ সংরক্ষণ এবং দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন।

এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার পর চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। পাশাপাশি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুরো ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ঠিক কী ঘটেছিল তা খুঁজে বের করাই এই তদন্তের উদ্দেশ্য।

টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত আইন ও প্রটোকল অনুসরণ করেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করেছে। তবে বিচারাধীন আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বিভাগটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে, হত্যার শিকার কলিন স্লেমোরের পরিবার ঘটনাটিতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ বলে জানিয়েছেন তাদের প্রতিনিধিরা। পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ক্রিস্টার আইনজীবীরা গভর্নর বিল লির কাছে তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর তাকে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রাণঘাতী ওষুধ শরীরে প্রবেশের পর কোনো আসামি বেঁচে থাকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টা পাইকের ঘটনাটি এ ধরনের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!