রাহুল গান্ধীদের আবেদনে ১৪ ত্রুটি, শুনানি স্থগিত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের ১১ নেতার করা আবেদনে ১৪টি ত্রুটি শনাক্ত করেছে দেশটির সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রি। এসব ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবেদনটির শুনানি হচ্ছে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের ফটোকপি অস্পষ্ট এবং নয় আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়নি।
এসব ত্রুটি সংশোধনের পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) আবেদনটি শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন আবেদনকারীদের আইনজীবীরা।
আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।
যেসব আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত নথি বা ভকালতনামা জমা পড়েনি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।
এদিকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রিট আবেদনে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে কেন বিবাদী করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রি। আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে প্রধান বিবাদী করার পাশাপাশি তিন নির্বাচন কমিশনারকেও বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ বিরোধী জোটের অন্য নেতারা।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে ‘গণতন্ত্র রক্ষা পদযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দিকে অগ্রসর হন বিরোধী নেতারা। তবে আদালত থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভাগবান দাস রোডে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের মিছিল আটকে দেয়।
ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা।
আবেদনে বিরোধী নেতারা উল্লেখ করেন, সংবিধানস্বীকৃত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখার লক্ষ্যেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, তারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন না। বরং কার্যক্রমটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট নির্ধারিত সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং নির্বাচন কমিশন একটি সম্মিলিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।