ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, সরকার গঠনে আরব দলই ভরসা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:১৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, সরকার গঠনে আরব দলই ভরসা
ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হচ্ছে সরকার গঠনের হিসাব। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মতো আসন পাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এবং আরব দলগুলো একসঙ্গে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণে সরকার গঠিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির আংশিক ফল অনুযায়ী, প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনার পর নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা গাদি আইজেনকটের ইয়াশার দল বিরোধী শিবিরের প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন দল এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টিও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আসনসংখ্যার এই হিসাব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। তার দাবি, আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিলে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের অংশীদারিত্বে নতুন সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, বিরোধীদের সামনে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

একই ধরনের বার্তা দিয়েছে আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি করতে তারা প্রস্তুত। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ও আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবিও বিরোধীদের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিরোধী শিবির সরকার গঠনে এগিয়ে এলে আরব দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণের প্রশ্নটি বিরোধী শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব মিললেও রাজনৈতিক সমঝোতা সহজ হবে না।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন সম্ভব না হলে বিকল্প জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। কিন্তু বিরোধী নেতারা তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছুক থাকায় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও সীমিত। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই সরকার গঠনের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!