ভারতের ন্যাভিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মহাকাশে নতুন স্যাটেলাইট
ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ আরও শক্তিশালী করতে নতুন স্যাটেলাইট ‘এনভিএস-০৩’ উৎক্ষেপণের খবর দিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি যুক্ত এই স্যাটেলাইট ভারতের নির্ভুল সময় নির্ধারণ ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপনের পর ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন এই সাফল্যের কথা জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ সাফল্যে বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় ভারত। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘ন্যাভিক’। এই ব্যবস্থা ভারতের সীমানার বাইরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অবস্থান ও সময়সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারে।
তবে ন্যাভিক প্রকল্পের পথে অতীতে বড় বাধা তৈরি হয়েছিল। আমদানি করা পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটির কারণে কয়েকটি স্যাটেলাইটের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। নতুন এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ির পাশাপাশি আমদানি করা ঘড়িও রাখা হয়েছে। এতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্ভরশীলতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও জোরালো হলো।
ISRO+1
স্যাটেলাইটটিতে আগের এল৫ ও এস-ব্যান্ড সংকেতের পাশাপাশি নতুন এল১ সংকেতও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোনের অবস্থান নির্ণয়, বিমান চলাচল এবং পরিবহন খাতে ন্যাভিক ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সহজ হতে পারে। ভারতের ভূখণ্ড ছাড়াও সীমান্তের বাইরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় এ ব্যবস্থা সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ISRO+1
বিশ্লেষকদের মতে, এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ ভারতের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতা নির্ভর করবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও ধারাবাহিক সেবার ওপর।