পরিবার, শিক্ষক পাশাপাশি বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় ৩৮তম বিসিএস-এ পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কৃষিবিদ মো. রাসেল রানা। শিক্ষা জীবনে কৃষিতে অনার্স এবং মৃত্তিকা বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন তিনি। চাকরি জীবনে প্রথম পরীক্ষাতেই তাক লাগিয়ে দিয়েন দিনাজপুরের এই কৃতি সন্তান। ৩৮ তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় ৪২ তম হয়ে নিজ মেধার উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর রাখেন রানা। তার সফলতার গল্প জানতে মুখোমুখি হয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশের হাবিপ্রবি প্রতিনিধি মো. মিরাজুল আল মিশকাত।
ডেইলি বাংলাদেশ: কখন থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করা উচতি বলে মনে করেন?
.png)
রাসেল রানা: আমার মনে হয় চতুর্থ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিলেই ভালো হয়। সর্বনিম্ন তৃতীয় শিক্ষাবর্ষ থেকে। এর আগে অন্যান্য বই পড়ুন। একাডেমিক পড়াশোনা করুন। জীবন উপভোগ করুন। বিসিএস আপাতত নয়। অতি দীর্ঘ সময় একই জিনিস পড়লে আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। তাই যখন শুরু করবেন ফুল স্পিডে, ফুল ফোকাসে, ফুল চার্জ নিয়ে শুরু করবেন যেন ২-৩ বছর টানা দৌঁড়াতে পারেন। (আমি মাস্টার্স শুরুর ৪ মাস পর শুরু করেছিলাম)
ডেইলি বাংলাদেশ: প্রতিদিন কতটুকু পড়া উচিত?
রাসেল রানা: এটা নির্ভর করে আপনার কত তাড়াতাড়ি পড়া মুখস্থ হয় আর কতদিন তা মনে থাকে তার উপর। (আমি দিনে পড়তাম আর রাতে কিছু সময় নোট করতাম)। নিজের অবস্থা বিবেচনায় ব্যবস্থা নিন।
ডেইলি বাংলাদেশ: গ্রুপস্টাডি করা কতটা জরুরি বলে মনে করেন?
রাসেল রানা: অবশ্যই। অবশ্যই।। অবশ্যই।।। গ্রুপস্টাডি করলে ক্যাডার পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। (আলহামদুলিল্লাহ আমাদের গ্রুপের ৮০% সদস্য ক্যাডার বা নন-ক্যাডার। বাকিরা বিসিএসে ক্যাডার হবে ইনশাআল্লাহ।)
ডেইলি বাংলাদেশ: নোট করে লেখাপড়া করা কতটুকু জরুরি?
রাসেল রানা: অবশ্যই জরুরি। আপনার নোট হলো আপনার সৃষ্টি। বিপদের বন্ধু। পরীক্ষার আগে সব বই রিভিশন দিতে ৭/৮ দিন লেগে যায়। নোট করা থাকলে ৭/৮ ঘণ্টায় পুরো সিলেবাস রিভিশন শেষ করতে পারবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: পুলিশ/এডমিন ক্যাডার পেতে চাইলে কি আলাদা করে কোনো প্রস্তুতি নিতে হবে?
রাসেল রানা: সব ক্যাডারের প্রস্তুতি একই রকম। (শুধু ভাইভার কিছুক্ষেত্র ছাড়া)। আসল ব্যাপার হলো লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর তুলতে হবে। তাহলে যে ক্যাডার চাইবেন তাই পাবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: প্রিলিমিনারির জন্য কী কী বই পড়ব?
রাসেল রানা: আমার ব্যক্তিগত পছন্দের প্রিলিমিনারি বুকলিস্ট। (এগুলোর থেকে ভালো বই বাজারে/লাইব্রেরিতে থাকতে পারে। হয়ত আমি পড়িনি)
>English: Competitive English, SOS/Master
>English literature: শরীফ স্যারের A handbook of English literature
>গণিতঃ শাহিন’স ম্যাথ/ Khairul's math
>মানসিক দক্ষতাঃ শাহিন/ওরাকল/সানোয়ার
>সুশাসনঃ নাইম স্যারের বেসিক ভিউ থেকে
>বাংলাঃ জর্জ MP3 /প্রফেসরস
>বাংলাদেশঃ জর্জ MP3/প্রফেসরস, ৯ম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়,
>আন্তর্জাতিকঃ জর্জ MP3 /প্রফেসরস
>ভুগোলঃ জর্জ MP3 /প্রফেসরস, ৯ম দশম শ্রেণির ভূগোল
>বিজ্ঞানঃ জর্জ MP3 /প্রফেসরস
>কম্পিউটারঃ জর্জ MP3 /প্রফেসরস
এছাড়াও
নিচের বইগুলোকে আমি বলি best helpers:
*প্রফেসরস জব সলুশন
*সংক্ষিপ্ত সাধারণ জ্ঞান (Confidence)
*সংক্ষিপ্ত সাধারণ গণিত (Confidence)
*নাইম স্যারের বেসিক ভিউ (প্রিলি)
*Inception Plus (বোর্ড বই সংকলন)
*এসুরেন্স ডাইজেস্ট
*যেকোনো দুটি মডেল টেস্ট পুরো সলভ করবেনঃ এসুরেন্স/প্রফেসরস/জ্ঞানদীপ/অদিতি/কনফিডেন্স
ডেইলি বাংলাদেশ: বিসিএস প্রিলিমিনারি আর লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি কিভাবে নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
রাসেল রানা: আমি সমন্বিত প্রস্তুতি নেইনি। সেটা খুব বেশি প্রয়োজনীয় মনে হয়নি। সামনে যে পরীক্ষা পেতাম আমার প্রস্তুতি থাকত শুধু সেটিকে ঘিরে। প্রিলির সময় পড়া কিছু বই লিখিততে, ভাইভাতে কাজে লেগেছিল। বিশেষত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ে। এসময় পড়ার মতো বইয়ের তালিকা।
বাংলাদেশঃ
অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমি বিজয় দেখেছি, মূলধারা ৭১, মোজাম্মেল হক স্যারের পৌরনীতি ২য় পত্র,সংবিধান ব্যাখ্যাসহ।
আন্তর্জাতিকঃ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি [শাহ মো. আব্দুল হাই স্যারের]★
বাংলাঃ
শীকর বাংলা ভাষা সাহিত্য [মোহসিনা নাজিলা]
English:
কোন বই পড়িনি। Daily Star পেপার রেগুলার পড়তাম।
গণিতঃ
কনফিডেন্স এর সংক্ষিপ্ত সাধারণ গণিত।
প্রিলির সিলেবাসটা ডিটেইলস এ পড়লে, টপিকগুলো বুঝে পড়ে যদি অন্যকে গুছিয়ে বুঝাতে পারেন তাহলে আপনি সফল। লিখিততে ভালো করবেন ইনশাআল্লাহ।
সবচেয়ে ভালো হয় যদি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলা ও ইংলিশে এক পৃষ্ঠা করে প্রতিদিন লিখেন। কাউকে দিয়ে সেই লিখা চেক করান। লেখার গ্রামার, বাক্য গঠন, প্রাঞ্জলতা ইত্যাদি ঠিক আছে কি না দেখে মতামত দিতে বলুন।
ডেইলি বাংলাদেশ: প্রিলি/লিখিত-এর সঙ্গে সঙ্গে কি ভাইভার প্রস্তুতি নিয়া উচিত?
রাসেল রানা: প্রয়োজন নেই। তবে ইংলিশ স্পিকিং প্রাকটিস করবেন। যেকোনো টপিক মানুষকে সহজ করে বুঝাতে পারলেই আপনি ভাইভা ভালো করবেন ইনশাআল্লাহ।
ডেইলি বাংলাদেশ: অনার্স এর সিজিপিএ বিসিএসে কেমন ফ্যাক্ট করে?
রাসেল রানা: অনার্স এর সিজিপিএ এর উত্তরে রেজাল্ট ম্যাটার করে না। এনিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। শুধু মনে রাখবেন, যখনই যা পড়বেন তা থেকে শেখার চেষ্টা করবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: একটি নিদির্ষ্ট সময় পর প্রায় সব শিক্ষার্থী কোচিংমুখী হয়, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
রাসেল রানা: আপনার ইচ্ছে। কোচিংয়ে বা নিজে যেখানেই হোক, অবশ্যই অনেক বেশি পরীক্ষা দিবেন। পরীক্ষা যত বেশি দিবেন নিজেকে ততবেশি ঝালিয়ে নিতে পারবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: আপনি কখন শুরু করেছিলেন? কতক্ষণ পড়তেন? কিভাবে পড়তেন?
রাসেল রানা: আগেই বলেছি আমি বিসিএস পড়াশোনা শুরু করেছিলাম মাস্টার্স ভর্তির ৪ মাস পরে। বিসিএসের প্রথম বইটিও তখনই কেনা। ভার্সিটির টিচার হওয়ার ইচ্ছে ছিল তাই অনার্সে বিসিএসের ধারেকাছেও যাইনি। যখন শুরু করলাম মনে হচ্ছিল খুব দেরি করে ফেলেছি। খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু শিখতে চাইতাম। শুরু করার পর থেকে দীর্ঘ আড়াই তিন বছর শুধুই পড়েছি। দাওয়াত খাওয়া, ঘুরাফেরা, আডডাবাজি কমিয়ে দিয়েছিলাম। প্রস্তুতির শুরুতেই আমরা গ্রুপ তৈরি করেছিলাম। দিনেরবেলা পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়া, ঘুরাঘুরি সবই একসঙ্গে করতাম। গ্রুপে প্রতিদিন পরীক্ষা দিতাম। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। গ্রুপস্টাডির থেকে ভালো কিছু আর হতেই পারে না। গ্রুপস্টাডি করার কারণে আমরা বিসিএসের টপিকগুলো নোট করে তারপর পড়তাম। নিজে নোট করা সবচেয়ে ভালো। গ্রুপস্টাডির ক্রেজ এতোবেশি ছিল যে প্রিলি, লিখিত এমনকি ভাইভাতেও পরীক্ষার ১ ঘণ্টা আগেও গ্রুপস্টাডি করেছিলাম! পড়া মনে রাখার অনেক টিপস ইউটিউবে দেয়া আছে। সেগুলো ফলো করার পাশাপাশি আমি নিজের স্ট্রং পয়েন্টস খুঁজে বের করেছিলাম। আমি অনেক বেশি সেল্ফ টেস্ট দিতাম। পরীক্ষায় যে প্রশ্ন/টপিক পারতাম না তখনই তার বিস্তারিত নোট করে পড়াশোনা করতাম।
ডেইলি বাংলাদেশ: ধন্যবাদ আপনাকে ডেইলি বাংলাদেশকে সময় দেয়ার জন্য।
রাসেল রানা: আপনাকেও ধন্যবাদ। সকলের সফলতার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।