ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

অভিনয়কে ভালোবেসে খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছি: জান্নাত আফরিন

মোহাম্মদ তারেক
প্রকাশিত: ১৫:৩২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
অভিনয়কে ভালোবেসে খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছি: জান্নাত আফরিন
ছবি: সংগৃহীত

নবাগতা জান্নাত আফরিন। গেল কোরবানির ঈদে একগুচ্ছ নাটকে অভিনয় করে নজরে এসেছেন। কাজ করছেন দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকে। তাকে দেখা গেছে মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবেও। নিজের কাজ ও বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে ‘ডেইলি বাংলাদেশ’র মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি। তারই চুম্বাকাংশ তুলে ধরা হলো।

অভিনয়ের শুরু কীভাবে?
জান্নাত আফরিন:
ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের শখ ছিল। ছোটবেলায় থিয়েটার করেছি। মিউজিক ভিডিওর মডেল হয়েছি। টুকটাক অভিনয় করলেও, ২০২০ সালে রুম্মান রুনির ‘ফাইভ স্টার মেস’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু হয়। আমার পরিবার রক্ষণশীল। যদিও তারা এখন অভিনয়কে সাপোর্ট করছে। অভিনয়কে ভালোবেসে খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছি।

গত কোরবানির ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি নাটক প্রচার হয়েছিল। কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?
জান্নাত আফরিন:
আমি সৌভাগ্যবতী। ঈদে ভালো কিছু নাটকে কাজ করতে পেরেছি। কাজগুলো নিয়ে দর্শকের সাড়াও পেয়েছি। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে – আম্মাজান, বিয়ে, হেট স্টোরি, দাওয়াত, একটি ভিন্ন গল্প, লুডু ইত্যাদি। এর মধ্যে আম্মাজান ও দাওয়াত, এ দুটো নাটকের জন্য দর্শকের ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। ঈদে আগুনের গাওয়া ‘জোসনা’ গানের গানচিত্রে মডেল হয়েছি। সেটার জন্যও সাড়া পেয়েছি।

Advertisement

জান্নাত আফরিন

দর্শকরা অভিনয় নিয়ে কি বলছে?
জান্নাত আফরিন:
তারা আমাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে নক দিয়ে বলছে, ‘আপু আপনার অভিনয় ভালো লেগেছে। আপনাকে বেশি বেশি নাটকে দেখতে চাই।’ এসব শুনতে ভালো লাগে। কেউ কেউ নাটকের ক্লিপ পাঠায়। অনেকে দেখা করতে চায়। ছবি তোলে দেখা হলে। এমনকি উপহারও পাঠায় তারা। এ এক অন্যরকম অনুভূতি।

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই-
জান্নাত আফরিন:
খণ্ড নাটকের কাজ করছি। মীর আরমান হোসেনের ব্রেক আপ স্টোরি, মোহন আহমেদের টোনাটুনি, মাহিদুল মাহিনের প্লাস সাইজ, বর্ণনাথের কান ফিউজিং ও মাসুদ ভালো হয়ে যাও, কৌশিক শংকর দাসের ওয়েব ফিল্ম দাফন, শাফি উদ্দিন শাফির মায়ের বালা ও ভুলে ভরা ভালোবাসা– এর কাজ শেষ করেছি। ধারাবাহিক করছি– শান্তি মলম ১০ টাকা ও জামাই বাহার। এ ছাড়া আমার উল্লেখযোগ্য নাটকের মাঝে রয়েছে আকাশ রঞ্জনের ‘যৌথ একাউন্ট’, সাখাওয়াত হোসেন মানিকের ‘ভাইরাল হাজব্যান্ড’ ও ‘হোম মেড’, রুমান রুনির ‘ফাইভ স্টার ম্যাজ’ ও ‘এক ফালি রৌদ’, মাঈনুল হাসান খোকনের ‘শিয়ানা শিয়ানা টক্কর’ এবং সোহেল তালুদার পরিচালিত দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ভ্যাজাইলা গ্রাম’।

নাটক করতে গিয়ে বেশ কয়েকজনের বিপরীতে অভিনয় করলেন। কার সঙ্গে কেমন রসায়ন জমেছে?
জান্নাত আফরিন:
ইমতু রাতিশ আমার বন্ধু। তার সঙ্গে অভিনয় করে ভালো লাগে। সে অনেক সহযোগিতা করে। ফারহান ও আরশও ভালো। তারাও কাজের সময় সহযোগিতা করে। তবে আমার জন্য অন্যরকম ভালো লাগার কাজ ‘পর্দার আড়ালে’। এখানে মিশা সওদাগর আমার বিপরীতে ছিলেন। আমি নার্ভাস ছিলাম। তিনি এত অভিজ্ঞ একজন অভিনেতা। তিনি সাহস দিয়েছেন। কিভাবে অভিনয় করতে হবে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার সাথে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি।

নাটকের জুটি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? 
জান্নাত আফরিন:
জুটি গড়ে উঠলে ভালো হয়। সবার সঙ্গে জুটি হয়ও না। দর্শকই জুটি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। কারো সঙ্গে জুটি হলে ভালো। না হলেও ক্ষতি নেই। তবে, আমি আফরান নিশোর সঙ্গে অভিনয় করতে চাই। হুমায়ূন ফরিদী বেঁচে থাকলে তার সঙ্গে কাজ করতাম। আফসোস, আমরা তাকে হারিয়ে ফেলেছি।

জান্নাত আফরিন

আপনি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। সে অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
জান্নাত আফরিন:
আমি কখনো ভাবিনি সিনেমায় অভিনয় করবো। কিন্তু হয়ে গেছে। আমি শাপলা মিডিয়ার গ্যাংস্টার ও মাফিয়া ছবিতে অভিনয় করেছি। শাহিন সুমন ছিলেন পরিচালক। তিনি সহযোগিতা করেছেন। সুমন ধরের শত্রু ছবিতেও কাজ করছি। এ ছাড়া রুকাইয়া জাহান চমকের ‘ডি’ শীর্ষক একটি ছবিতে কাজ করছি। সব মিলিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কী বলবেন?
জান্নাত আফরিন:
আমি অভিনয় করে যেতে চাই। দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে চাই। যেমন শাবানা ম্যাডাম। তাকে দেশের মানুষ এক নামে চিনে। আমিও এমন একটি পর্যায়ে যেতে চাই, যেখানে দর্শক এক নামে আমাকে চিনবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!