‘স্বাস্থ্য জটিলতায় প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিতে হবে’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবায় কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার। সম্প্রতি ডেন্টাল শাখা, আল্ট্রাস্নোগ্রাম, ইসিজিসহ নানাসহ আরো কিছু সেবা চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এদিকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন অনেক শিক্ষার্থী। বিষয়গুলো নিয়ে মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশর ইবি প্রতিনিধি তাজমুল জায়িম।
ডেইলি বাংলাদেশ: বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে কী কী সেবা চালু রয়েছে?
ডা. সিরাজুল: চোখের সমস্যার সব সেবা, ডেন্টাল বিভাগ, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ নানা সেবা দিয়ে থাকি আমরা। এমনকি উপাচার্য আমাদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের থেকে আমাদের মেডিকেল সেন্টার অনেক সমৃদ্ধ।
ডেইলি বাংলাদেশ: হলের ডাইনিংয়ের খাবারে শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিগুণ পাচ্ছে কী?
ডা. সিরাজুল: শিক্ষার্থীরা আমাদের জানিয়েছে, খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে অনেকে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। দেখা যায়, তিনবারের স্থলে দুইবার খায় অনেকে। এছাড়া খাবারের মান ভালো না হওয়ায় যথেষ্ট পুষ্টি পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। ফলে অনেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, মানসিকভাবে আপসেট হয়ে যাচ্ছে, এমনকি ব্রেইনেও একটা ইফেক্ট ফেলে অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ: এ সমস্যা সমাধানে কি করা যেতে পারে?
ডা. সিরাজুল: খাবারের মান বৃদ্ধির জন্য হল প্রভোস্টদের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সাবসিডি বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
ডেইলি বাংলাদেশ: ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের বড় এক অংশ পেটের সমস্যায় ভুগেন, এর জন্য কি অস্বাস্থ্যকর খাবার দায়ী?
ডা. সিরাজুল: অনেকসময় এমন হয় যে, খাবার অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় নানা প্রকার জটিলতার ভুগেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্নতার অভাবেও এরকম হতে পারে। ফলে এক্ষেত্রে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে তার প্রণালি ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ: মশা নিধনে ক্যাম্পাসে যে স্প্রে করা হয়, তা কতটা উপযোগী?
ডা. সিরাজুল: এটা দিয়ে শতভাগ কাজ হয় না, তবে কিছু পরিমাণে মশা কমে। মশা থেকে বাঁচার সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি হচ্ছে মশারি ব্যবহার করা।
ডেইলি বাংলাদেশ: এসব স্প্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিনা?
ডা. সিরাজুল: এটা অবশ্যই মানবদেহের জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকারক। এজন্য আমরা মশারি ব্যবহার করি।
ডেইলি বাংলাদেশ: বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডিভাইস আসক্তি দেখা যায়, এর ফলে শিক্ষার্থীদের কী কী সমস্যা হয়?
ডা. সিরাজুল: ডিভাইস আসক্তির কারণে অনেকের ড্রাই আই সিনড্রোম দেখা দিচ্ছে। এজন্য আমরা সব সময় পেশেন্টদের প্রতি ২০ মিনিট ডিভাইস ব্যবহারের পর চোখকে বিশ্রাম দেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া ডিভাইস ব্যবহারের সময় ব্লু কার্ড লেন্স ব্যবহার করলে মোবাইল, ল্যাপটপের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করা যেতে পারে।
ডেইলি বাংলাদেশ: ক্যাম্পাসে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে, মেডিকেল সেন্টারে এর জন্য কি কোন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা রয়েছে?
ডা. সিরাজুল: এর জন্য আমরা এন্টি ভেনম রেখেছি। এছাড়া হলসহ বিভিন্ন ভবনে কার্বোলিক অ্যাসিড সরবরাহ করেছি।
ডেইলি বাংলাদেশ: মেডিকেল সেন্টারকে ‘নাপা সেন্টার’ বলে ট্রল করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি কিছু বলার আছে কি?
ডা. সিরাজুল: স্বাভাবিকভাবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হালকা জ্বর নিয়ে আসে। এখন তাদের নাপা ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক স্বাভাবিকভাবে দেই না। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। এখন যার সমস্যা অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই সমাধান হবে, তাকে তো নাপাই দিতে হবে। এছাড়া আমাদের এখানে অন্যান্য হাই পাওয়ারের ঔষধও আছে কিন্তু সেটা তো দরকার ছাড়া দিতে পারি না।
ডেইলি বাংলাদেশ: সামনে শীতকাল শুরু হচ্ছে, এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা শারীরিক সমস্যায় পড়েন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোন পরামর্শ আছে কি?
ডা. সিরাজুল: এর জন্য মাস্ক ব্যবহার করা দরকার। আর ঠাণ্ডার প্রটেকশনের জন্য পোশাক পরিচ্ছদ ভালোভাবে পরলে আশা করি সুস্থ থাকা সম্ভব।