আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিক শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের মুসলিমদের সখ্যতা অনেক পুরোনো হলেও মাঝখানে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ইদানীং এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যা আশা জাগানিয়া। মানুষ তার সৌখিন ও আভিজাত্য প্রকাশ করতে ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখছে ভিন্ন ভিন্ন ক্যালিগ্রাফি। আমাদের দেশেও তার চাহিদা কম নয়। তেমনি একজন উদীয়মান ক্যালিগ্রাফি শিল্পী ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম রিয়াদ।
ডেইলি বাংলাদেশকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন তার স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নোবিপ্রবি সংবাদদাতা কাউছার আহমেদ।
.png)
ডেইলি বাংলাদেশ: ক্যালিগ্রাফির শুরুটা কীভাবে?
রিয়াদ: ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার ইচ্ছা ছিল। তবে শখের বসেই ছবি আঁকা। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো জ্ঞান নেওয়া হয়নি কখনো। ক্যালিগ্রাফিটাও শখ করেই শুরু। ছবি আঁকার সব বিষয়ের ওপর দক্ষতা রাখার জন্য ক্যালিগ্রাফি করতেও ভালোলাগা কাজ করে। কোনো রেফারেন্স দিলে অনলাইন থেকে তথ্য নিয়ে ক্যালিগ্রাফি করতাম। ক্যালিগ্রাফি বেশ প্রশংসনীয় হয় যখন সেটা বাসাবাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়। যা একজন চিত্রশিল্পীর পরিচয় বহন করে।
ডেইলি বাংলাদেশ: ক্যালিগ্রাফি শিল্পে প্রবেশ নিজের শখে, নাকি ইচ্ছে পূরণ?
রিয়াদ: নিজের শখ কিংবা অন্যদের আনন্দ দেয়ার জন্যই এগুলো করা। যখন কাউকে ক্যালিগ্রাফি করে দেই, সেগুলো যখন প্রশংসা করেন তখন ভালোলাগা কাজ করে।

ডেইলি বাংলাদেশ: আরবি ক্যালিগ্রাফিই কেন বেছে নিলেন?
রিয়াদ: ছবি আঁকা বিষয়টা মানুষকে প্রশান্তি দেয়। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু নির্ধারণে ক্যালিগ্রাফি অত্যন্ত জনপ্রিয়। অ্যারাবিক ক্যালিগ্রাফিতে ধর্মীয় প্রশান্তি অনুভূত হয়। অ্যারাবিক ক্যালিগ্রাফি করে মানসিক শান্তিও পাওয়া যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ: অনেকেই স্বপ্ন পূরণে নানান বাধার সম্মুখীন হয়ে ছিটকে পড়েন, আবার কেউ সেসব বাধা ডিঙিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে আনেন। তো কখনো কি এমন কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন?
রিয়াদ: এখনো কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। তবে নিজের অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি পরিমাণে ছবি আঁকার সুযোগ হয়ে উঠে না। অ্যাকাডেমিক পড়া শেষ করে কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কিছু কাজ করা হয়। তবে আমি আমার কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা শেষ করে সাফল্য ছিনিয়ে আনবো।
ডেইলি বাংলাদেশ: জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন?
রিয়াদ: কখনো আন্তর্জাতিকভাবে বা জাতীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হয়নি। সামনে সুযোগ থাকলে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছে আছে। অ্যাকাডেমিক পড়ালেখা শেষ করে এই চিত্রশিল্প নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছে আছে। বর্তমানে সুযোগ পেলে মানুষকে শেখাচ্ছি। ছবি আঁকার এবং ক্যালিগ্রাফি করার অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
ডেইলি বাংলাদেশ: একজন আরবি ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আপনার কাছে থেকে আরবি ক্যালিগ্রাফির উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাইব…।
রিয়াদ: ক্যালিগ্রাফি অনেকটাই প্রাচীনতম রীতি। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া বা বর্তমান ইরাকের এর উদ্ভব হয়। যদিও পবিত্র কুরআন নাযিলের আগেই এর প্রচলন ছিল। কিন্তু কুরআনের প্রতিলিপি তৈরির কাজে এর ব্যবহার শুরু হয় প্রায় ৭০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। এছাড়াও আরবি ক্যালিগ্রাফিতে প্রাচীনকালের রীতিনীতি তুলে ধরা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ: এখান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন?
রিয়াদ: আর্থিক দিক বিবেচনায় ভালো সুবিধা পাচ্ছি। কমিশন কাজগুলোর ক্ষেত্রে খুব ভালোই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ: একটা পেইন্টিং শেষ করতে কেমন সময় দরকার হয়?
রিয়াদ: ছবি আঁকতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য থাকতে হবে। আর ছবির প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ছবির আকারের ওপর ভিত্তি করে সময়ের ভিন্নতা হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
রিয়াদ: একজন তরুণ চিত্রশিল্পী হিসেবে ভালোই সাড়া পাচ্ছি। বন্ধুমহল, ক্যাম্পাসের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ফেসবুক পেইজে নিয়মিতই অর্ডার আসে।
ডেইলি বাংলাদেশ: ছবি আঁকা নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
রিয়াদ: আমার ফেইসবুক পেইজ (Art with RIYAD) এর মাধ্যমে অনেক অর্ডার আসে। আমি আমার কাজের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে চাই। আমার স্বপ্ন ‘বড় আর্ট গ্যালারি’ হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ: যারা এই সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী তাদের সম্পর্কে আপনার কোনো উপদেশ?
রিয়াদ: আপনার যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য থাকতে হবে। ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে যেকোনো কাজই সুন্দর হবে। যেটা ক্যালিগ্রাফির বেলায়ও একই। নতুন যারা ক্যালিগ্রাফি শিখতে চান তাদের বলব প্রথমে ডবল পেন্সিলে প্র্যাকটিস করে পরে বাঁশের কলমে যাওয়ার জন্য। এতে নিজেই নিজের দুর্বলতা বা দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: ধন্যবাদ আপনাকে।
রিয়াদ: ডেইলি বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ।