দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি কেমন আছেন?
শাকিব খান: খুব ভাল আছি। আমার কোনো প্রবলেম নেই। আমি অরাজনৈতিক একজন মানুষ। সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে।
শাকিব খানকে দেশে কিং খান বলা হয় ভারতে কিং খান বলতে শাহরুখ খানকে দর্শক চেনেন। আপনি তার সঙ্গে নিজের কোন মিল খুঁজে পান?
শাকিব খান: শাহরুখ খান একজন বিশ্ববিখ্যাত তারকা, গ্লোবাল সুপারস্টার। এশিয়ার স্টারদের জন্য উনি অনুপ্রেরণার নাম। আমি মনের করি, শুধু ইন্ডিয়া নয়, সমগ্র এশিয়ার জন্য তিনি গর্বের নাম। তার সঙ্গে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। আমি চিন্তাও করিনি কখনো। মানুষ একটু হলেও তার মতো করে আমাকে ভালোবাসেন; বোধহয় এই মিলটুকু খুঁজে পাই। এটাই ভালো লাগার বিষয়।
.png)
আপনার আসন্ন ছবি দরদ-এ সোনাল চৌহনের সঙ্গে কাজ করলেন। তা সঙ্গে কাজ করার সময় ভাষা গত কোনো সমস্যা হয়েছে?
শাকিব খান: বাংলা-হিন্দি অনেক শব্দের মিল রয়েছে। তাই পরস্পরের ভাষাগত বোঝাবুঝিতে একদমই বেগ পেতে হয়নি। তাছাড়া আজকের পৃথিবীতে ভাষা কোনো ব্যাপার না।

সোনালকে নায়িকা হিসেবে কত নম্বর দেবেন? তার কোন গুণটা ভাল লেগেছে?
শাকিব খান: সোনাল ডেফিনেটলি কো-অপারেটিভ আর্টিস্ট। সে চেষ্টা করেছে ভেঙে নতুনভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে। শুটিংয়ে তার যে ডেডিকেশন দেখেছি, আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, হ্যাপি হয়েছি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়া তথা যারা দরদ দেখবে সবার কাছে ভালো লাগবে।
তুফান ছবি বাংলাদেশে প্রায় রেকর্ড গড়েছে, কিন্তু কলকাতায় সেভাবে ব্যবসা করতে পারেনি। কারণ কী হতে পারে?
শাকিব খান: ওখানে কর্মাশিয়াল ছবির বাজার খুবই মন্দ। যতটুকু গিয়ে দেখলাম, খোঁজখবর নিলাম ওখানকার বড়বড় স্টাররা অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু অনেক বছর ধরে কলকাতার কর্মাশিয়াল ফিল্মের বাজার অনুকূলে নেই। তুফানের সাকসেস কিন্তু শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ না, গ্লোবালি সাকসেস এসেছে। এই সাকসেস গত বছর প্রিয়তমা থেকে শুরু হয়েছে। পৃথিবীর বড়বড় শহরে অফিশিয়াল রিলিজ দিয়ে আমরা পরপর প্রিয়তমা, রাজকুমার, তুফানের সাকসেস পেয়েছি। দিনের পর দিন এটা বাড়ছে। আমার সামনের ছবিগুলো গ্লোবাল রিলিজের ক্ষেত্রে তুফানের চেয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা করে রাখা রয়েছে। আমি লক্ষ্য করছি, দেশের মতো সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ছবির মার্কেট তৈরি হয়ে গেছে। স্টকহোম, ডাবলিন, প্যারিস, মিডেল ইস্ট, নর্থ আমেরিকা ছাড়াও এমন এমন শহরের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে হলিউডি ছবিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ছবিগুলো রিলিজ হচ্ছে। সাকসেস আসছে, যেটা আগে ভাবনার গণ্ডির বাইরে ছিল। কিন্তু আমি এই স্বপ্নটাই দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি যা এখন সত্যি হয়েছে।
সিনেমা থেকে গান ভারত বাংলাদেশের একটা সহজ চলাচল ছিল। এমন পালাবদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত বিদ্বেষী মন্তব্য কী সিনেমার শিল্পের উন্নতি সম্ভব?
শাকিব খান: বাংলাদেশের ইলিশ মাছ তো ঠিকই যাচ্ছে। আমাদের ক্রিকেটাররা খেলতে যাচ্ছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় মিটিং হচ্ছে। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের পরস্পরের মিলে মিশে থাকা উচিত। তেমনটাই তো দেখছি। কিছু মানুষ এখান থেকে এক কথা বললে, ওখান থেকেও কিছু মানুষ বাংলাদেশ নিয়ে আজে বাজে বলছে! মানুষের আবেগের জায়গা থেকে মতামতের একটা বিভেদ থাকতে পারে। আর সম্পর্ক থাকলে ভাঙা-গড়া সবখানে থাকেই। কিছুদিন পর আবার ঠিক হয়ে যায়। এসব নিয়ে আমি একদমই চিন্তিত না। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারকরা হয়ত সমস্যা খুঁজে সমাধান বের করবেন। আমি মনে করি, এশিয়ান হিসেবে আমাদের মিলেমিশে থাকা উচিত।

এত বড় একটা পালাবদল অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়েছে, সিনেমা হল ভাঙচুর হয়েছে। দেশের মেগাস্টার হিসেবে আপনি কীভাবে দেখছেন এই পরিস্থিতি?
শাকিব খান: এতবড় ঘটনার পরে স্বাভাবিক হতে একটু তো সময় লাগে। আমাদের এখানকার একজন আর্টিস্টের ছবি যখন পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেল, তখনই ওখানকার একটি আন্দোলনের ফলে মুখ থুবড়ে পড়লো। সবখানে কমবেশি ওলট-পালট থাকে। দেশের ক্রাইসিসে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করবে, আন্দোলন করবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষরাই অনেক কিছু ভাঙে আবার তারাই গড়ে! নতুন কিছু এলে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করে। তাই সবকিছু আবার যেভাবে গড়ে উঠছে আমি আশা করছি সবাই আবার স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে কাজে মনোযোগী হচ্ছে। আমি আশা করবো, আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।
বার বার আপনার ব্যক্তিগত জীবন তথা বিয়ে নিয়ে নানা কাটাছেঁড়া হয়। ব্যক্তি শাকিবকে কতটা আঘাত দেয় এসব?
শাকিব খান: আঘাত তো দিয়েছেই। কোনো ভাঙনই তো সুখের নয়। যতটুকু হয়েছে, হয়ত ওপর্যন্ত হওয়ার ছিল। লাইফ ইজ অ্যা জার্নি। জার্নিতে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়। আমার জীবনে দুজন(অপু-বুবলী) মানুষ অতীত, এটা আগেও বলেছি। অতীত হিসেবে তারা থাকুক। এসব নিয়ে আমার আক্ষেপ-ভ্রূক্ষেপ কিছুই নেই। যা হয়েছে হয়ত ভালোর জন্য হয়েছে। ওগুলো আমি মনেও করিনা। আমার দুই সন্তান, বাবা-মা, বোন ও তার পরিবার, কিছু কাছের আপন মানুষ, আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রিমার্ক-হারল্যান (অথেনটিক কসমেটিক্স এন্ড হোমকেয়ার প্রতিষ্ঠান), এবং দেশ বিদেশের লাখো কোটি ভালোবাসার মানুষ রয়েছে। যারা আমাকে অঢেল ভালোবাসা দেয়; তাদের সবাইকে নিয়ে আমি খুব ভালো আছি। বাকি জীবনটা সবার ভালোবাসা নিয়ে কাটাতে চাই।
মাঝে শোনা গিয়েছিল আপঅনি ফের বিয়ে করবেন। অনেকে বলছেন পাত্রী নাকি ডাক্তার। সত্যিই কী বিয়ে করছেন?
শাকিব খান: মানুষ একা থাকতে পারে না। পরিবার এবং সমাজ নিয়ে বেঁচে থাকে। লেটস সি... কোনো ফোর্স নেই যে এই সালের মধ্যে বিয়ে করতে হবে। যদি তেমন কিছু হয় পারিবারিকভাবে হবে এবং সেটা বিয়ের পর্যায়ে যাবে। আমার বাবা-মার যেহেতু বয়স হয়েছে সন্তান হিসেবে তারা আমাকে সেটেল দেখে যেতে চায়।
বড় তারকার হওয়ার বিড়ম্বনা ঠিক কোনগুলি?
শাকিব খান: অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ফেইস করতে হয় ভিত্তিহীন নিউজ। উদ্ভট জিনিস নিয়ে মাঝে মধ্যে লেখালিখি দেখি। যার কোনো সত্যতা নেই, যা কখনো ঘটেনি সেগুলো অনেকে রং মিশিয়ে লিখে দেয়। কে কার আগে নিউজ দেবে বা ভিউ হবে এই প্রতিযোগিতার কারণে এসব হয়ে থাকে। এগুলো মাঝে মধ্যে বিব্রতকর লাগে। এছাড়া বিভিন্ন সময় মানুষ কাছে আসার জন্য ঝাপিয়ে পড়ে, ঘিরে ধরে এটা আসলে ভালোবাসার কারণে হয়। এই ভালোবাসার কারণেই তো আমি।

বরবাদ সিনেমা সম্পর্কে বলুন। কবে নাগাত শুটিং শুরু হবে?
শাকিব খান: এ মাসেই (অক্টোবর)-এ মুম্বাইতে শুরু হচ্ছে বরবাদ। আগামী বছর ভালো সময়ে রিলিজ হবে। আবার বিগত সিনেমাগুলো একটি আরেকটিকে ক্রস করেছে। বরবাদ অতীতের রেকর্ড ভাঙবে এই প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করছি। শুটিংয়ের আগে গ্লোবাল রিলিজে ইতোমধ্যে গুড ভাইব পাচ্ছি।
‘তুফান ২’ নিয়ে আপনার আশাবাদ কেমন?
শাকিব খান: প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে এ বছর আমরা ‘তুফান ২’ করছি না। এতটুকু কনফার্ম ২০২৫-এ ‘তুফান ২’ আসছে না। তার আগে আমরা আলফা আই, চরকি, এসভিএফ মিলে অন্য একটি প্রজেক্ট করতে পারি। এই কাজটির প্লট আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে। কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে এটি জানানো হবে। আমি বরাবরই মেধাবী ও নতুন গল্পে যারা আমাকে প্রেজেন্ট করতে পারবে তাদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। এতে নিজের মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ আনা যায়।
হঠাৎ বিপিএল এ দল কেনার উদ্দেশ্য কি? এখানে সুপারস্টার নায়ক কী ক্রিকেটের সুপারস্টার সাকিবকে নিয়ে ফিরবে?
শাকিব খান: ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আমার ছোটবেলা থেকে ছিল। শুটিংয়ে থাকলেও বড় বড় ম্যাচের আপডেট নিতাম সব সময়। তাছাড়া এশিয়ানদের ইমোশনের জায়গা ক্রিকেট। বিপিএল-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা অনেক আনন্দের বিষয়। এই ইচ্ছা আমার অনেক আগে থেকে ছিল। আমার কোম্পানি রিমার্ক হারল্যানেরও ইচ্ছা ছিল। আগে থেকে ক্রিকেটের দেশ বিদেশে বড় বড় টুর্নামেন্টে রিমার্ক হারল্যান থেকে স্পন্সর করা হয়। আমরা নতুন ভাবে দল গঠনের চেষ্টা করছি। ঢাকা ক্যাপিটালস-শুধু আমার একার নয়, এই টিম আসলে সবার। আমার বিশ্বাস সবার ভালোবাসা ও সমর্থন পাবে ঢাকা ক্যাপিটালস। এবার বিপিএল আমাদের দেশে নতুন করে সেজে উঠছে। আমার বিশ্বাস এবার বিপিএল জমে উঠবে। এখনো খেলোয়াড় চূড়ান্ত করা হয়নি। চমক তো থাকবেই। জানা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই।