শহীদুল হক বাদল -এর গুচ্ছ ছড়া
হুঁতুম পেঁচা
চোখ দু'টো উঁড়ু উঁড়ু,
নাকটাও বুঁচা।
এ্যাই, বাসী-পঁচা তুই খাস নে-
এনে দিই ঝালমুড়ি-ফুচকা?
বন-বাদারে ঘুরে উড়েই,
মুখটা তো বানিয়েছিস মাংকি
ওরে বাবা, কী যে দুষ্টু ওটা
কাটছেও আবার ভেঙচি!
.png)
জোনাকী
ঝিক ঝিক, ঝিক মিক,
ফুটলো রাত্রী।
ঘুঁটঘুঁটে আঁধারে
এ কোন বনযাত্রী?
ঝোঁপ-ঝোঁপে ঝড়পথে
চকচকেই সোনাটি,
মিটিমিটি তাঁরা হয়েই,
আলোয় জ্বলে জোনাকী!
হাঁটি হাঁটি পা পা
একটু হেটে একটু বসে,
ফেলছে মেপে পা।
হেলেদোলে যাচ্ছে খোকা,
ধরতে বিড়াল ছা।
খিল-খিলিয়েই হাসছে দেখো,
আসছে দেখে মা।
হুমরি খেয়ে পড়লো ধপাস
পিছলে গিয়ে পা।
রং-বেরঙের ছড়া
লাল নেবে না, নীল নেবে-
চাও কী সাদা-কালো?
রংধনু রঙ দিতে পারি,
ঐ বেগুনিও তো ছিলো।
হলুদ-সবুজ নিতে পারো,
যদি মানায় ভালো।
সাজতে কী চাও প্রজাপতি?
জ্বলমলে সব আলো।
পাখি
ডানা মেলে যাচ্ছো পাখি,
কোথায় তোমার ঘর?
একটুখানি যাওনা বসে,
আসছে যখন ঝড়।
তোমারও কী মোদের মতো,
আছে ভাই-বোন।
বলবে কথা তাদের সাথে?
দিচ্ছি টেলিফোন।
ময়না-কোকিল, শোনাও গান
আজ মনটা ভালো নয়।
সবাই গেছে মার্কেটে তাই,
লাগছে একা ভয়...!
লুকোচুরি খেলা
এ্যাই, চুপ, চুপ, চুপ
বলো না কথা কোনো।
নানা'র ঘরে লুকিয়েছি,
কেউ জানেনা যেনো।
নানু আমায় খুঁজে যখন,
হবে দিশেহারা।
চকলেট হাতে মামা এলেই,
চমকে দেবো সারা।
বাবা এসে, বলবে হেসে
তোকে নিয়ে আর পারিনা দাঁড়া।
যাক, তবে এবার থাক
এখন থামো, সবাই থামো
মা এসেই ধমক দিয়ে বলবে আমায়,
এ্যাই, পড়তে বসোনা কেন?
প্রথম পাঠ
চারটাতে হয় এক হালি,
বিশটাতে হয় কুড়ি।
পড়ালেখায় হলে ভালো
বলবেনা কেউ বুঁড়ি।
ঝগড়াঝাটি নয় তো ভালো
বলবে সত্য কথা।
অকারণে কারো মনেই,
দিওনা কেউ ব্যথা।
কারো সনেই করবে না রাগ,
বন্ধু মিলে সবেই।
গুরুজনের মানলে কথা,
মানুষ হবে তবেই।
পড়ো নামাজ, রাখো রোজা
চলো সোজা পথে।
অতি লোভী নয় সে ভালো,
জানিও শাস্ত্রমতে।
স্বপ্ন যেথায় ওড়ে
মা বলে যে, হবো ডাক্তার
বাবা'য় ইঞ্জিনিয়ার।
চাচ্চু বলে আগে হবে মানুষ,
শোনো মাই ডিয়ার।
নানা বলে হয়ে নেতা,
বাঁচাও দেশের চাষী।
দাদু বলে, কোনো কাজই নয় যে ছোট,
যদি দেশকে ভালবাসি।
নানু বলে কোথায় মাণিক,
যাস নে বহুদুরে।
কে শুনাবে গল্গ তোকে?
যেথায় চাঁদের বুঁড়ি,
আরও ঐ দৈত্য-দানব
মেঘের সাথে উড়ে।
আমি বলি-
আমার মতোই আমি হবো,
কেন তোমার মতো?
বুঝেনা কেউ এই কথাটি,
তাই, কাঁদিও অবিরত।