অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে সাজা হতে পারে-
ধারা: ১৬১। সরকারি কর্মচারী হইয়া বা হওয়ার আশা করিয়া কোন সরকারি কার্যের জন্য ঘুষ লওয়া:
কোন ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারি কর্মচারী হবে বলে আশা করে কোন সরকারি কাজ করার অথবা করা হতে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারি দায়িত্ব সম্পাদনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্ৰহ প্রদর্শন করার জন্য বা করা হতে বিরত থাকার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভা দ্বারা অথবা কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা কোন ব্যক্তির উপকার বা অপকার করার জন্য বা তা করার চেষ্টায় নিজের অথবা অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে আইনসম্মত পারিশ্রমিক ছাড়াই অপর যে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে বা লাভ বা গ্রহণ করতে সম্মত হয় বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
.png)
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা-
কোনো সরকারি কর্মচারী যদি অপরাধমূলক অসদাচরণ সংঘটিত করে অথবা উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে সর্বোচ্চ সাত বত্সরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে, [এবং অপরাধমূলক অসদাচরণ সংক্রান্ত আথির্ক সম্পদ বা সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিকট বাজেয়াপ্ত করা যাইতে পারে৷] এই অংশটুকু দুর্নীতি প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন, ১৯৯২ দ্বারা সংযোজিত।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা: কোন ব্যক্তি তাহার নিজ নামে, বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তির নামে, এমন কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দখলে রহিয়াছেন বা মালিকানা অর্জন করিয়াছেন, যাহা অসাধু উপায়ে অর্জিত হইয়াছে এবং তাহার জ্ঞাত আয়ের উত্সের সহিত অসংগতিপূর্ণ বলিয়া মনে করিবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে এবং তিনি উক্তরূপ সম্পত্তি দখল সম্পর্কে আদালতের নিকট বিচারে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বত্সর এবং অন্যুন ০৩ (তিন) বত্সর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন; এবং উক্তরূপ সম্পত্তিসমূহ বাজেয়াপ্ত যোগ্য হইবে৷
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায়: কোন ব্যক্তি মানিলন্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন ৪ (চার) বৎসর এবং অনধিক ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যাহা অধিক, অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
রায়ের তারিখ ঘোষণা-
গত ২৭ ডিসেম্বর কারাগার থেকে আসামি পার্থ গোপালকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এ সময় দুদক যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামি পার্থ গোপালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে নির্দোষ দাবি করে তার খালাস প্রার্থনা করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মামলার সূত্রে যা জানা যায়-
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই কারাগারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অভিযানে যায় দুদক। বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপালের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এর পরেই আটক করা হয়। পরদিন ২৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করে দুদক।
তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আসামি পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ১৪ জনকে সাক্ষী করে আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
এরপর গত বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বদলির আদেশ দেন। তারপর গত ৪ নভেম্বর আদালত আসামি পার্থ গোপালের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে যা উল্লেখ করা হয়-
বরখাস্তকৃত কারা উপমহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এসব টাকা গোপন করে তার নামীয় কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে বিদেশে পাচারের উদ্দেশে নিজ বাসস্থানে লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।