ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

জিনের বাদশাহ পরিচয়ে ফোন, প্রেম ও বিয়ের পর খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:২৫, ৩ আগস্ট ২০২২
জিনের বাদশাহ পরিচয়ে ফোন, প্রেম ও বিয়ের পর খুন
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী আরজুকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ইনসেটে নিহত বাচ্চু। ছবি: সংগৃহীত

জাকির হোসেন বাচ্চু (৩৮), বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দীনে। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা থাকতেন। জিনের বাদশাহ পরিচয়ে প্রতারণা করে আসা বাচ্চু দুই বছর আগে একদিন কল দেন আরজু আক্তারকে। সেই থেকে তাদের প্রেম, এক পর্যায়ে বিয়ে। আরজুকেও প্রতারণায় সঙ্গী করেন বাচ্চু। এতসব পরিকল্পনার মধ্যে সেই ভালোবাসার স্ত্রীর হাতেই খুন হন প্রতারক বাচ্চু।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, পরকীয়ায় আসক্ত জাকির টাকা-পয়সা ব্যয় করতেন অনৈতিক কাজে। এ নিয়ে মনোমালিন্য থেকে একপর্যায়ে আরজুকে তালাক দেন বাচ্চু। তালাক হলেও তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতোই সম্পর্ক ছিল, প্রায়ই একসঙ্গে বসবাস করতেন। তবে পরকীয়া ও তালাকের প্রতিশোধ নিতে বাচ্চুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আরজু আক্তার। পরিকল্পনা অনুযায়ী লঞ্চে ভোলা যাওয়ার পথে কেবিনে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাচ্চুকে হত্যা করেন আরজু।

Advertisement

খোরশেদ আলম বলেন, গত ২৯ জুলাই সদরঘাট এলাকায় এমভি গ্রিন লাইন-৩ লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে জাকির হোসেন বাচ্চুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত বাচ্চুর প্রথম স্ত্রী সুরমা আক্তার।

১ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে সাভারের নবীনগর এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে আরজু আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই আদালতে আরজু আক্তার ১৬৪ ধারায় হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই এসপি বলেন, লঞ্চের কেবিনে প্রথমে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এরপর বাচ্চু পানি আনতে লঞ্চের নিচতলায় গেলে দুধের বোতলে পাঁচটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখেন আরজু। কিছুক্ষণ পর বাচ্চু কেবিনে এলে তাকে ওষুধ মেশানো দুধ খেতে বলেন। দুধ খেয়ে বাচ্চু ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর তার হাত-পা বেঁধে ওড়না দিয়ে বাচ্চুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আরজু। হত্যার পর বাচ্চুকে কেবিনে স্টিলের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। 

তিনি বলেন, লঞ্চটি ভোলার ইলশা ঘাটে পৌঁছলে আরজু নেমে যান। লঞ্চের ক্লিনার ওই কেবিনে এসে রুমটি গুছানো দেখে আর ভেতরে যাননি। দুপুরে লঞ্চটি আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে দুইজন মহিলা তিন বাচ্চাকে নিয়ে সেই কেবিনে ওঠেন। এর মধ্যে একটি বাচ্চা খাটের নিচে গেলে এক মহিলা যাত্রী তাকে আনতে গিয়ে বাচ্চুর মরদেহ দেখতে পেয়ে লঞ্চের স্টাফদের খবর দেন। পরে স্টাফরা এসে মরদেহ দেখতে পেয়ে ঢাকার নৌ পুলিশকে খবর দেয়। লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছলে নৌ পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!