ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

বিষ দিয়ে মাছ ধরলে মৎস্যশূন্য হবে সুন্দরবন: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১৮ আগস্ট ২০২২
বিষ দিয়ে মাছ ধরলে মৎস্যশূন্য হবে সুন্দরবন: হাইকোর্ট
ফাইল ফটো

বিষ প্রয়োগ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ শিকার করলে এক সময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মৎস্যশূন্য হয়ে যাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন।সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, বিষ নিয়ে মাছ শিকার করলে কিংবা চারু পদ্ধতির মাধ্যমে কাঁকড়া শিকার করলে ঔ নৌকার সব আরোহীকে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।’

Advertisement

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী জানান, নিবন্ধিত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহার করে দুবলার চর থেকে সব ধরনের মাছ পরিবহণের অনুমতি আছে বন বিভাগের। তবে, কাঁকড়া বহনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে, কাঁকড়া ধরার পর খুলনায় আনতে দেরি হওয়ায় অনেক কাঁকড়া মারা যেত।

এ অবস্থায় অন্যদের মতো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাঁকড়া পরিবহণের অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঁকড়া আহরণকারী জেলেরা। কিন্তু বন বিভাগ আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় জেলেরা ঐ বছরই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে ঐ আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এরপর বন বিভাগ থেকে ঐ বছরের ৫ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের জানানো হয়, কাঁকড়া পরিবহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এরপর বন বিভাগের ঐ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে জাহান আলী গাজীসহ আট জন ২০১৯ সালে রিট আবেদন করেন। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে আদালত বলেন, এক শ্রেণির জেলে সুন্দরবন থেকে মাছ আহরণ করার জন্য পাস সংগ্রহ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবাহিত খালগুলোতে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ আহরণ করে। ফলে বিষ প্রয়োগ করা খালে সব প্রকার জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে যায়। এমন কাজ অত্যন্ত নিকৃষ্ট। এভাবে বিষ প্রয়োগ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ আহরণ করা অব্যাহত থাকলে এক সময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মৎস্যশূন্য হয়ে যাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!