ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

ডা. সাবিরা হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১১ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৫১, ১ জুন ২০২৩
ডা. সাবিরা হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১১ জুলাই
ফাইল ফটো

রাজধানীর কলাবাগানে চিকিৎসক সাবিরা রহমান লিপি নিহতের ঘটনার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. জুয়েল মিঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত। 

আদালতের কলাবাগান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২১ সালের ৩০ মে রাজধানীর কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনায় তার পরিবার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা করে। এদিকে ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনো উদঘাটন হয়নি ডা. সাবিরার খুনের প্রকৃত রহস্য। তবে ঘটনাটি তদন্তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পিবিআই।

থানা পুলিশের হাত ঘুরে পিবিআই মামলার তদন্ত পাওয়ার পর ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল ডা. সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার  করা হয়। পরদিন তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৪ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে সকালে কলাবাগান প্রথম লেনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের শয়ন কক্ষ থেকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান ওরফে লিপির রক্তাক্ত ও দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১ জুন সাবিরার ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা করেন।

জানা গেছে, ডা. সাবিরা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেটিতে তিনটি কক্ষ। একটি কক্ষে সাবিরা, বাকি দুটি কক্ষে দুই তরুণী থাকতেন। সাবিরার পাশের কক্ষে থাকা কানিজ সুবর্ণা মডেলিং করেন। আরেকটি কক্ষে যে তরুণী থাকেন, তিনি ঘটনার আগেই বাড়িতে গিয়ে আর ফেরেননি। ঐ তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়েন। এই ২ জনকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ডা. সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে গ্রেফতার করে পিবিআই। 

খুনের কারণ সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, কি কারণে ডা. সাবিরা খুন হয়েছেন তার কারণ এখনো জানা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছে। তার স্বামীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়। অনেক তথ্য পেয়েছি। আবার অনেক প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর আগে আমরা সাবিরার ছেলে ও তার ফ্ল্যাটমেট কানিজ সুবর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছি। অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে তদন্ত শেষ করবো এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!