ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

প্রিন্টিং মেশিনের ঘোষণা, কনটেইনারে ৪০ লাখ জাল স্ট্যাম্প

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২০, ৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রিন্টিং মেশিনের ঘোষণা, কনটেইনারে ৪০ লাখ জাল স্ট্যাম্প
সংগৃহীত ছবি

প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিল একটি কনটেইনার। তবে কাস্টমসের গোয়েন্দা তল্লাশিতে সেটির ভেতর পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। এ চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত। অন্যদিকে, আমদানি করা প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে।

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘চায়না মার্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা এ চালানে অনিয়মের বিষয়টি উদ্‌ঘাটিত হয় এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে।

গত ৯ আগস্ট চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি ঘোষণায় পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছিল ‘প্রিন্টিং মেশিন’। তবে ঘোষণাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় চালানটি বিশেষ নজরদারিতে রাখে সিআইসি।

এরপর গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে কনটেইনারটি পরীক্ষা করেন। তল্লাশিতে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।

এনবিআরের তথ্যমতে, কনটেইনার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের এক প্যাকেট সিগারেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার প্রতি প্যাকেট থেকে ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা রাজস্ব পায়।

উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাতে পারত বলে জানিয়েছে এনবিআর। পাশাপাশি প্রসাধনী সামগ্রী আমদানির মাধ্যমে আরও প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে চালানটিতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!