রোববার আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামি সাথী ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজী হলে তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, শনিবার প্রযুক্তির সহায়তায় যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। কলাবাগানের সেন্ট্রাল রোডের ৭৭ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফ্ল্যাট ই-১ এর বাসিন্দা সাথী আক্তার পারভীন তার শিশু সন্তান আর ঐ গৃহকর্মী হেনাকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত তিন বছর ধরে নিহত গৃহকর্মী হেনা ঐ বাসায় কাজ করছিল।
.png)
ডলি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, সে নিহত হেনাকে লাঠি আবার কখনো খুন্তি দিয়ে পিটিয়েছে। প্রায়ই শিশু গৃহকর্মী হেনার ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতেন। গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেও নির্যাতন করা হতো হেনাকে। খুনের দিন মেয়েটি তার (সাথী আক্তার) বাচ্চার জন্য রাখা খাবার খেয়ে ফেলায় সে মারধর করে। মেয়েটিকে নির্মম নির্যাতনের ফলে মারা যায়।
গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, নৃশংসভাবে হেনাকে মারধর করা হয়েছে, যার চিহ্ন পাওয়া যায় তার বেডের মধ্যে। সেখানে মেয়েটির মলত্যাগ পাওয়া গেছে। তার নির্যাতন সইতে না পেরে মেয়েটি বেডে মলত্যাগ করে ফেলে।
হেনাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে নির্যাতন করা হয়েছে। বাচ্চার সঙ্গে খেলাধুলার সময় মারামারি হলে সেটা দেখেও তাকে নির্যাতন করতেন ডলি।
জানা যায়, ডলি একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একজন সার্ভেয়ার হিসেবে এলজিইডিতে কর্মরত ছিলেন। তার এক স্বামী ডাক্তার। আরেক স্বামী ছিল এলজিইডির গাড়িচালক। ডলি প্রথমে এলজিইডিতে কম্পিউটার টাইপিং পোস্টে জয়েন করেন। এরপর পড়াশোনা করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন। গৃহকর্মী হেনাকে ডলি গত তিন বছর আগে বিসিকের একজন কর্মচারীর মাধ্যমে মুক্তাগাছা থেকে তার বাসায় এনেছিলেন।
কলাবাগান থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে ফোনে গৃহকর্মী হেনার মৃত্যুর প্রাথমিক তথ্য পায় পুলিশ। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি মালিক সোসাইটির লোকজন নিয়ে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ই-১ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে গৃহকর্মী হেনার মরদেহ উদ্ধার করেন।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ২৬ আগস্ট সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহালে পুলিশ দেখতে পায়, শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুখে ফেনা এবং শরীর ফুলে গেছে হেনার। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের এসআই বাবুল হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেন।