ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

শ্যালিকাকে ধর্ষণের দায়ে দুলাভাইয়ের যাবজ্জীবন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:৪০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
শ্যালিকাকে ধর্ষণের দায়ে দুলাভাইয়ের যাবজ্জীবন 
রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়

রাজধানীর দক্ষিণখানে ১৪ বছর বয়সী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই মো. কবির হোসেন সোহাগকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম এ রায় দেন। 

এদিন আসামির উপস্থিতিতে আদালতে রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। আসামি কবির হোসেন সোহাগের বাড়ী চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার আশকরবাড়ী গ্রামে। 

Advertisement

রায়ে বলা হয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুটি নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৩ ধারা মোতাবেক তার মা কিংবা মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

শিশুটি তার জৈবিক পিতা মো. কবির হোসেন সোহাগ বা মাতা কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হবে। 
এছাড়া শিশুর বয়স ২১ হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হতে আদায় করতে পারবে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি সোহাগ সম্পর্কে ভুক্তভোগী কিশোরীর দুলাভাই। ভুক্তভোগীর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার মা ও আসামি একই বাসায় থাকতো। ভুক্তভোগীর মা ও বোন চাকরি করতো। চাকরির জন্য দিনের বেলায় তারা বাইরে থাকায় সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসামি সোহাগ। 

পরে এক সময় ভুক্তভোগী সন্তানসম্ভবা হয়ে গেলে আসামি সোহাগ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ভুক্তভোগীকে বাসায় আটক করে রাখে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছেলে সন্তান জন্মদান করেন। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

এরপর ২০২১ সালের ৩১ জুলাই মামলাটি তদন্ত করে গত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!